সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সম্প্রীতির মহামিলনমেলার কেন্দ্রভুমি, ঐতিহ্যবাহী খ্যাতনামা আবাসিক এলাকা “পল্লবী আবাসিক এলাকা”। জনবহুল পল্লবী আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে রয়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক।
পল্লবী আবাসিক এলাকার মূল প্রবেশদ্বারের সামনেই অবস্থিত আছে ব্যস্ততম গোলচত্বর। এখানে আছে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, স্কলার্সহোম স্কুলসহ অসংখ্য ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রতিরাত এই মহাসড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এবং যানবাহন চলাচল করে। এই মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বাংলাদেশ সড়ক আইন অমান্য করে দ্রুতগতিতে চলাচল করে চলেছে। ইতিমধ্যে এই এলাকাটি ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। মহাসড়কে অবস্থিত এই গোলচত্তরটি বর্তমানে মরনফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভয়াবহ ঝুকিপূর্ণ বীভৎস অবস্থায় রয়েছে।
প্রায়ই এই মহাসড়কে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দূর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে ভয়াবহ কষ্ট প্লাবনে কাতরান। এই মরনফাঁদ গোলচত্বরের উভয় পাশের সড়কে গতিরোধক বাঁধ নির্মাণ করার দাবি পল্লবী আবাসিক এলাকার সচেতন নাগরিকদের। দীর্ঘদিন ধরে জোড়ালোভাবে জানানো এই ন্যায়সঙ্গত দাবিটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। কোন কিছুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। ফলশ্রুতিতে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। মানুষরা আজ নিরাপত্তাহীন। এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেন না।
প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষরা প্রাণ হাতে নিয়ে কোমলমতি শিশু সন্তানসহ সকল বয়সীরা চলাচল করছেন। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করায় ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগ-ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এই অবস্থায় এই ভয়াবহ সংকট ও আশঙ্কা থেকে মানুষকে বাঁচাতে আন্তরিক সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। মানুষের জীবনমানের সুরক্ষা এবং নিরাপদ করা দরকার। এজন্য এখনি দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী দরকার।
বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল করিব খান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খান মোঃ রেজা-উন-নবী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিকট জরুরী ভিত্তিতে পল্লবী আবাসিক এলাকার প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনের গোলচত্বরের উভয় পাশের সড়কে গতিরোধক বাঁধ নির্মাণ করার জন্য পল্লবী আবাসিক এলাকার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ জোর দাবি জানিয়েছেন। মহাসড়কের উভয় দিকের সড়কে গতিরোধক বাঁধ নির্মাণ করা হলে সড়ক দূর্ঘটনার হাত থেকে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব বলে পল্লবী আবাসিক এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মানুষরা মনে করেন। তাই সময় থাকতে মানুষকে নিরাপদ রাখতে ও বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই সর্বপ্রথম যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
