BD SYLHET NEWS
সিলেটবৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটের এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ফাহিমের


জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ৪:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ইস্যুতে যখন দেশের ক্রিকেট উত্তাল, ঠিক তখনই বিপিএল ঘিরে উঠল ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ। বুধবার রাতে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ১২ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় সিলেট টাইটান্স। আর এই হারের পরই দলের ভেতরের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ‘ম্যাচ বিক্রি’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দলটির উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামেই গণমাধ্যমের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফাহিম। এরপর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, দলের ভেতরের একজন সদস্য টাকার বিনিময়ে ম্যাচটি প্রতিপক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।

গাড়ি চালানো অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছি। আজকের ম্যাচটি ভীষণভাবে কলুষিত হয়েছে। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য এসেছে, ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে। সে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিলেটের মানুষের আবেগের সঙ্গে সে নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি করেছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এর কোনো দরকারই ছিল না। সে চাইলে আমাকে বলতেই পারত তার কত টাকা প্রয়োজন, তা দেওয়া হয়ে যেত। এই সত্য আমাকে সত্যি ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনা আমি এখানেই থামতে দেব না, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের হারটা ছিল পুরো একটা বেইমানির সঙ্গে হার। যারা ম্যাচটা দেখেছেন, আমি আপনাদেরকে আবারও বলব, আপনারা অনেকে বুঝে গেছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। আপনারা সবাই ভালো থাকেন। এতটুকু আপনাদেরকে জানালাম, এই হারটা আমাদের হার ছিল না, এই হারটা হচ্ছে সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইজড। এটা ফিক্সিং ছিল, বেইমানি করা হয়েছে সিলেটের সঙ্গে।’

অভিযুক্তের নাম প্রকাশ না করলেও তাকে ছেড়ে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফাহিম। তিনি বলেন, ‘তবে মানুষটা ভুল করে ফেলছে, সে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে। সে আমাদের সিলেটের আবেগের সঙ্গে হাত দিয়েছে। এই বিপিএল-টিপিএল সবকিছুই যে একটা বেইমানি, একটা জুয়ার ব্যবসা, এটা আমি আগে থেকে জানতাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে থাকা আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই আজকে ডিমোরালাইজড হয়ে গেছে। পুরো সিলেটের মানুষকে কান্না করানো হয়েছে বেইমানের কারণে। আমি কিন্তু তাকে এত সহজভাবে ছাড় দেব না। ভালো থাকেন আপনারা।’

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতের আসরগুলোতেও এমন বিতর্ক ছায়া ফেলেছে। এবার টুর্নামেন্টকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের সাবেক প্রধান আলেক্স মার্শালকে দায়িত্ব দিয়েছিল বিসিবি। তার উপস্থিতিতে বড় কোনো অভিযোগ না উঠলেও, আসরের শেষ মুহূর্তে খোদ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ বিপিএলকে আবারও বড় বিতর্কের মুখে ঠেলে দিল।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।