একটি নিষিদ্ধ ‘গে’ অ্যাপের মাধ্যমে নাজমুল হক নিয়াজের সঙ্গে আলিফ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। তার সূত্র ধরে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে ওঠে আরও দুই তরুণের সঙ্গে। তবে টাকার প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ সহচরই হয়ে ওঠে ভয়ংকর খুনি। ছুরিকাঘাতে নিয়াজকে হত্যার পর দুটি মোবাইল ফোন, একটি টেলিভিশন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
রাজধানীর বাড্ডার বাসায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় পুলিশ। বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো নাসিরুল আমীন বলেন, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখার কর্মকর্তা ছিলেন নিয়াজ। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার মামা ফারুকুল ইসলাম বাড্ডা থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তারা হলেন– সিফাত হোসেন, সাকিব আল হাসান, মো. রাইয়ান ও নয়ন প্রমানিক। পরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি টেলিভিশন ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগীর সঙ্গে সিফাত ও সাকিবের পরিচয় করিয়ে দেন আলিফ। এরপর নাজমুলের সঙ্গে তাদের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রেপ্তারকৃতরা একাধিকবার ওই বাসায় গিয়ে গাঁজা সেবন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। বিনিময়ে তারা টাকা পেতেন। এর মধ্যে নাজমুলের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় সিফাতের। সেইসঙ্গে তার ও সাকিবের মেয়ে বন্ধু নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। তখন তারা পরিকল্পনা করেন, নাজমুলের কাছ থেকে টাকা আদায় করবেন। সেই উদ্দেশে ঘটনার দিন তারা একটি ছুরি কেনেন। সিফাত ছুরিটি নিয়ে নাজমুলের বাসায় যান ও তোশকের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরে তারা গাঁজা সেবন করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। নেশার প্রভাবে নাজমুল কিছুটা অচেতন হয়ে পড়লে সিফাত পরিকল্পনা অনুযায়ী ছুরি দিয়ে তার মুখে ও গলায় জখম করেন। হত্যার সময় সাকিব ঘরের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত রাইয়ান তাদের বন্ধু ও নয়ন পেশায় রিকশাচালক।
