BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৩৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেটের উৎমাছড়ায় মিলল ২ লাখ ঘনফুট লুটের পাথর


আগস্ট ১৯, ২০২৫ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : সিলেটের ভোলাগঞ্জ এলাকার সাদাপাথর ছাড়াও সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্র উৎমাছড়া ও রাংপানিতে লুটের পাথর উদ্ধারে প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি অভিযানে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির নজরদারিতে উৎমাছড়ায় দুই লাখ ঘনফুট লুটের পাথরের সন্ধান মিলেছে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ৪৮ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, ৪৮ বিজিবির উৎমা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত সংলগ্ন উৎমাছড়া এলাকা প্রাকৃতিকভাবে বালু ও পাথরে সমৃদ্ধ এবং পর্যটন এলাকা হিসেবে সুপরিচিত। গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র উৎমাছড়া থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আদর্শপাড়া গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে আসছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির কঠোর নজরদারি, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্থানীয় অসাধু চক্রের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে তারা মজুদ করা পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করতে ব্যর্থ হয়। ১৯ আগস্ট বেলা ১১টায় ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে উৎমা বিওপির একটি টহলদল আদর্শগ্রামে বিশেষ অভিযান চালায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় প্রায় দুই লাখ ঘনফুট পাথর মজুদ রয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফ্রাহিম ইকবাল চৌধুরীর নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা পাথরের সঠিক পরিমাপ ও আইনি ব্যবস্থার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাংপানি
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জৈন্তাপুরের শ্রীপুর পাথরমহালের রাংপানি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার সেখানে দিনভর অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স। উদ্বার করা পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে রাংপানিতে। রাংপানির নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনিকভাবে বিজিবির হাতে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জব্দ করা প্রায় ২৮ হাজার ঘনফুট বালু উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমার নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা।

রাংপানি পর্যটন এলাকা সিনেমা শুটিংয়ের জন্যও পরিচিত। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একাধিক দৃশ্য শ্রীপুরে ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে শাবনাজ-নাঈম জুটির প্রথম ছবি চাঁদনী’র কিছু দৃশ্য শ্রীপুরের বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়িত হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশের দর্শকদের কাছে পরিচিতি পায়। তবে পাথর লুটেরাদের কবলে পড়ে সেই সৌন্দর্য অনেকটাই আজ ম্লান।

সাদাপাথর
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সিলেট সদর উপজেলার টিলাপাড়া, রঙ্গিটিলা, কান্দিপাড়া ও সালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধানখেত এবং কারও কারও বাড়ির উঠান, পথের ধারে ঘাস, লতাপাতায় লুকানো অবস্থায় রাখা প্রায় ৫ হাজার ১০০ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে প্রশাসন। সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত খনিজসম্পদ ব্যুরোর মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাপাথরে লুটপাটে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।’

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।