বিডিসিলেট ডেস্ক : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্ত্রী ফাতেমা বেগম রূপালীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী জামাল গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ জুলাই) ভোরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ১১ জুলাই রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামে কালু পাটোয়ারীর মেয়ে ফাতেমা বেগম রূপালীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গা-ঢাকা দেয় স্বামী জামাল গাজী।
হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক বিরোধ এবং টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পেশায় গার্মেন্টকর্মী জামাল গাজীর বাড়ী পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকায়। টিকটিকের মাধ্যমে ফাতেমা বেগম রূপালীর সঙ্গে ১১ মাস আগে তাদের পরিচয় এবং বিয়ে হয়।
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালীসহ ৫টি জেলায় অভিযান শেষে কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পুলিশের একটি দল আসামি জামাল গাজীকে গ্রেপ্তার করে।’
পুলিশ সুপার আরো জানান, নিহত রূপালীর এর আগে আরো ৪টি বিয়ে হয় এবং তার ৬ সন্তান রয়েছে।
গত জুন মাসে স্ত্রীর ১১ ভরি স্বর্ণ এবং ৩৬ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী জামাল গাজী। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে আটক এবং স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নগদ ৩৬ হাজার টাকা ফেরত দেননি। এই নিয়ে হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো।
যার জের ধরে গত ১১ জুলাই রাতে আবারও দুজনের মারামারি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী রূপালী ঘুমিয়ে পড়লে রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে বসতঘরের পাশে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান জামাল গাজী।
এই ঘটনায় নিহত রূপালীর ছেলে টিপু পাটোয়ারী বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা করেন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিকেলে আসামি জামাল গাজীকে চাঁদপুরের আদালতে তোলা হয়।
সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি। পরে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আসামিকে।’
