লাইফস্টাইল ডেস্ক : পেট ভরে খাবার খাওয়ার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই আবার ক্ষুধা লেগে যায়? মাঝে মধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, প্রায়ই যদি এমন হয়, তবে এর পেছনে খাদ্যাভ্যাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে। ভারতের গুরগাঁওয়ের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ পারুল যাদব এ বিষয়ে পাঁচটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন।
১.পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব
পারুল যাদবের মতে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এটি পাকস্থলীর খাবার ধীরে হজম হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু খাবারে যদি মূলত পরিশোধিত শর্করা থাকে এবং প্রোটিন কম থাকে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় ডিম, পনির, ডাল, গ্রিক দই, টোফু, মুরগির মাংস বা মাছ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
২. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া
সাদা পাউরুটি, মিষ্টি সিরিয়াল, বিস্কুট ও বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায়। এই ওঠানামার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। এ সমস্যা এড়াতে পরিশোধিত শর্করার বদলে পূর্ণ শস্য, ফল, শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ।
৩. স্বাস্থ্যকর চর্বির ঘাটতি
খাবারে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ না থাকলেও দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং খাবারকে আরও পুষ্টিকর করে তোলে।
৪. তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে করা
অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে মস্তিষ্ক সেটিকে ক্ষুধা হিসেবে ভুল সংকেত দিতে পারে। তাই হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে আগে এক গ্লাস পানি পান করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন পারুল যাদব। অনেক ক্ষেত্রেই এতে ক্ষুধার অনুভূতি কমে যেতে পারে।
৫. খুব দ্রুত খাওয়া
খুব দ্রুত খাবার খাওয়া বা খাওয়ার সময় টেলিভিশন দেখা কিংবা মোবাইল ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বুঝতে পারে না যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ভরার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। তাই ধীরে ধীরে এবং মনোযোগ দিয়ে খাবার খেলে অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সচেতনভাবে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে খাবারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
