মাহমুদ হোসেন খান:-: বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন গণমাধ্যমকে ঘিরে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের কারণে স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল যথাযথ নিবন্ধন ছাড়াই ভুল, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অনিবন্ধিত বা যাচাইবিহীন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহ দ্রুত হওয়ায় ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই দুইয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিবন্ধন ও নীতিমালার মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন হলেও তা যেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার কারণ না হয়। তারা আরও বলেন, সংবিধানে যে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ নীতিমালা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয় অপরিহার্য।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে?—গণমাধ্যম কি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, নাকি বিভিন্ন নীতিমালা ও প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে? এই বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংবাদিক মহল এবং সাধারণ জনগণের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন গণমাধ্যম যেমন অপরিহার্য, তেমনি দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত সংবাদ প্রকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
