BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যৌক্তিক সময় যেন সীমাহীন না হয় : মঈন খান


সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪ ১০:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিডিসিলেট ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘সরকার যে সংস্কার করতে চায়, তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ধৈর্য ধারণ করে যৌক্তিক সময় দেওয়া উচিত। তবে সরকারকেও ভাবতে হবে সে সময় যেন সীমাহীন না হয়। তা না হলে ছাত্র-জনতার আবারও মাঠে নামতে হতে পারে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি’ আয়োজিত ‘জনগণের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রোডম্যাপ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার ও সংস্কার এবং আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় কী- এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হয়।

পরে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক, সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার।

সভায় মঈন খান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মধ্যে নতুন চেতনা জেগেছে। ফলে বিভিন্ন সংস্কারের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের সংস্কার করা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘একবার-দুইবার নয়। শেখ হাসিনার মতো একজন দুইবার থাকলেই দেশের ১২টা বেজে যাবে।

বর্তমানে রাজনীতিবিদদের ওপর ছাত্র-জনতার আস্থা নেই। আস্থা ফেরাতে রাজনীতিবিদদেরই কাজ করতে হবে। আত্মসমালোচনার পাশাপাশি নিজেদের আচরণে সংস্কার আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভিন্নমত না থাকলে গণতন্ত্র আসে না। গত ১৬ বছর আমরা এই ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারিনি বলেই দেশে দুর্যোগ নেমে এসেছিল।

পরিশেষে স্বৈরাচার সরকারের পালায়নের মাধ্যমে আমরা ফের মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি, এটা কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারাই দেশ শাসন করেন, ভিন্নমতের গুরত্ব স্বীকার করে নিলে, রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সমস্যা হয় না।’

দেশের রাজনৈতিক পরীক্ষায় রাজনীতিবিদদের উত্তীর্ণ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। দেশের সাংবিধানিক সংস্কারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকার যদি ভুল করে তাহলে সবাই মিলে বসে ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এমন কিছু করা যাবে না, যেন যে চেতনায় অভ্যুত্থান হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হয়। রাষ্ট্রের কাটামো সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতার সংস্কার এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে তারা সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘৭২ সাল থেকেই এ দেশে দুঃশাসনের একটি চক্র চলছে। একটি দল ক্ষমতা থেকে হটে গেলে আরেকটি দল ক্ষমতায় আসবে, এমন ধারণা কোনো দল করলে তাহলে দেশ আবারও সেই চক্রেই পড়বে। যেই ব্যবস্থার মধ্যে শেখ হাসিনার সরকার ছিল, সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কা এখনো আছে। তাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণে সরকারকে জাতীয় ঐক্য তৈরির আহ্বান জানাই।’

প্রশাসনে নৈরাজ্য চলছে উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এগুলো আর কোনোভাবে দেখতে চাই না। সরকার মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ সরকার এত দিন হোমিওপ্যাথি দিয়েছে, এখন সেনাবাহিনীকে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি আছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ক্লিয়ার করুন, সময় নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সরকার যদি কোনো রাজনৈতিক অংশীদারির অংশ হতে চায়, তবে সমালোচিত হবে। তাদের অধীনে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, সব রাজনৈতিক দল মিলে যে ৩১ দফা দিয়েছি, সেটা বাস্তবায়ন করতে সরকার সহায়তা করবে।’

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তাড়াহুড়ার কোনো নির্বাচন চান না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে। তবে তারা আসলে কী কী বিষয়ে সংস্কার করতে চায় তা যদি খোলাখুলি করত তাহলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে যেত। তবে সবচেয়ে আগে জরুরি একটা সুন্দর নির্বাচনের জন্য নির্বাচনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। এরপর সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের ভোটের রায় নিয়ে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা জনগণের কল্যাণে দেশের বাকি সংস্কারগুলো করবেন।’

গণফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘৬টি কমিশন তো হয়েছে, সরকারকে একটু সময় দেন। নির্বাচন কমিশন চলে গেছে, কমিশন এখনো গঠন হয়নি, দুদক পুনর্গঠন হয়নি। এসব বাস্তবায়নে পক্ষে আওয়াজ তুলতে হবে, কেবল সরকারকে প্রেসার দিলে চলবে না। অধৈর্য হলে আমরা ফের বিপদে পড়ব, ফেল করব। এমন হলে দেশের জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে যৌক্তিক সময় দেওয়ার কথা বলছে, তবে সেটা কত দিন, জানতে হবে। তবে সবার মনে প্রশ্ন আছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কত দিন সংস্কার করবে, সেটাও তাদের ক্লিয়ার করা এই মুহূর্তে জরুরি। এই সরকারের সমালোচনা করতে হবে, তা না হলে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার মতো সব নিজের ভাবতে শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রথম ভুল হলো- তিনি এসেই বললেন, আমাদের প্রথম এমপ্লায়ার হলো ছাত্ররা, এটা বলা ঠিক হয়নি। কারণ, এই আন্দোলন দেশবাসীর অনেক দিনের ত্যাগ। গণভবনে শেখ হাসিনা নেই, তবে সচিবালয়ে তিনি আছেন। একটা স্বৈরাচার সরকারের আমলা দিয়ে একটি আন্দোলনের সফল সরকার চলতে পারে না। এসব আমলা নিয়ে সরকার চলতে চায়৷’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক বলেন, ‘স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন একটি দেশের জন্য বিএনপি ও দেশের মানুষের তিলে তিলে গড়া আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন ছাত্র-জনতা। আমরা ১৭ বছর ধরে রাজপথে রক্ত দিয়েছি, দলের অনেক নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন। ১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে মুক্ত হবে না। তার জন্য আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, আমরা মোটেও অধৈর্য হইনি।’

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।