ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগরের সভাপতি ডা: রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেছেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরেও দেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা এক রাতের অভিযানে দেশের লক্ষ্য বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে সেই রাতে বাংলাদেশের বর্ণনা করা হয়। যার পরিকল্পনা হয়েছিল আরো একমাস আগে। ১৮ই মার্চ উদ্দেশ্য রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান চালিয়ে সরকারে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু বাঙালি ছাত্র যুবকরা পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু করলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন সহ ছাত্র যুবকরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলো ইয়াহিয়া খান, ভুট্টোর চক্রান্তে আলোচনাব্যর্থ হলে ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান রাতে ঢাকা ত্যাগ করার পূর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর আক্রমনের নির্দেশ দিয়ে যান। শুরু হয়ে যায় নিরীহ বাঙালিদের উপর অপারেশন সার্চলাইট একটি গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে ২৫ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে এক লক্ষ বাঙালিকে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করেছে। সারাদেশ জুড়ে গণ হত্যা শুরু করল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশের ছাত্র যুবকদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ চালিলে যান। ৬৬ জন আলেম বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধি পেয়েছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফিজ হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাই সহ ওলামায়ে কেরাম দেশ মাতৃভূমির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন যে কথা আজকের দেশের মানুষ বলতে চায় না। তিনি বলেন, অক্টোবরে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে পড়ছেন, তখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১০০ দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানের পক্ষেই আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষে জগজিৎ সিং অরোরা বাংলাদেশের পক্ষে এ কে খন্দকার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অধিনায়ক এমএজি ওসমানীকে কুট কৌশলী করে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয় নাই। তার প্রোটকল মানা হয়নি, হেলিকপ্টার যুগে যখন সিলেট থেকে রওনা হবে ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে হেলিকপ্টারে গুলি করে হেলিকপ্টারকে বিকল করে দেওয়া হয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হতে পারে। স্বাধীনতার পরে দেশের সম্পদ লুটপাট করে ভারতে যখন প্রচার করা হচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে নবম সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল বাধা দেয়াই তাকে ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর গ্রেফতার সকল সেক্টর কমান্ডারগণ বীর উত্তম খেতাব পেলেও মেলার দলিলকে সে উপাধি দেওয়া হয়নি তাকে রাখা হয় কারাগারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগরের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেল ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডা: রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এলএলবি, জয়েন্ট সেক্রেটার প্রভাষক বোরহানউদ্দিন, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা বদরুল হক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুল আলম চৌধুরী, মহিলা পরিবার বিষয় সম্পাদক মোঃ মইনুদ্দিন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল জাহের, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মো: জাকাওয়াত হোসেন।
