স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্থিত ‘শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল) সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস সরবরাহে নিষেধাজ্গা দিয়েছে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র। তারা নিজেদেরকে বর্তমান সরকার দল বিএনপি পরিচয় দিয়ে থাকে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় কোম্পানী অফিসে গিয়ে নিষেধ দিয়ে আসে তারা। এর মধ্যদিয়ে চাঁদাবাজরা তাদের দখলে নিয়ে গেছে কারখানাটি।
স্থানীয় সংবাদ সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১১ টার দিকেে ফেন্চুগন্জ উপজেলার নূরপুর গ্রামের সাফি আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল চাঁদাবাজ সার কোম্পানী অফিসে যায়। তারা অফিসের এসিস্টেন্ট বাণিজ্যিক পরিচালক বশির আহমদ ও কর্মকর্তা সম্রাট কুমার দাসকে অ্যামোনিয়া গ্যাস সরবরাহে নিষেধ করে। তারা বলে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ডিলারকে যেনো গ্যাস সরবরাহ কর না হয়।
অভিযোগ রয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কোম্পানীর বিভিন্ন ডিলারদের কাছে থেকে চাঁদা আদায় করে গ্যাস সরবরাহ করতে দিতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর এ চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে স্থানীয় চাদাবাজ চক্র। তারা রোববার সকালে গিয়ে নিজেদেরকে শাসকদল বিএনপির লোক এবং স্থানীয় এমপির ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে সার কারখানার গ্যাস সরবরাহে নিষেধ দিয়ে আসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিলার জানান, বাধা প্রদানকারী সাফি আহমদ চৌধুরী বর্তমান এমপি এম এ মালিকের অতি ঘনিষ্ট জন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা। তারা গ্যাস সরবরাহে বাধা দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। ইতোপূর্বেও আ.লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্যাস সরবরাহে বাধা দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। বর্তমানে ৬৫ জন ডিলার কোম্পানী থেকে গ্যাস ক্রয় করে বাজারজাত করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
রোববার অ্যামোনিয়া গ্যাস সরবরাহ বাধা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএফসিএল এর উপ-মহাপরিচালক (বাণিজ্যিক) মোঃ মাহবুবুর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রোববার দুপুরে সাফি আহমদ চৌধুরীর সেলফোনে কল দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
