BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৪৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জামায়াত প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সিলেট মহানগর বিএনপির


ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::- জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী (সিলেট -১) আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদ ও আর্থিক দায় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। রোববার নগরীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি বলেন, “নিজের সত্য গোপন রেখে অন্যের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা রাজনৈতিক ভণ্ডামি। নৈতিকতার মুখোশের আড়ালে নিজের অন্যায় ঢেকে রাখা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ পরিকল্পিত ভাবে বিভ্রান্তি মূলক ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জনগণের দৃষ্টি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনস্বার্থের ইস্যু থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনটি দলিলের ভিত্তিতে অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরে অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

প্রথমত, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অফিস অব দ্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) কর্তৃক ইস্যুকৃত সর্বশেষ ফর্ম-১২ অনুযায়ী, মাওলানা হাবিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেড-এর পরিচালক এবং আল কারামা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেড-এর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় কোম্পানির শেয়ার, অর্জনকালীন মূল্য ও বর্তমান মূল্য যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

দ্বিতীয়ত, একই তারিখে ইস্যুকৃত RJSC-এর শিডিউল-১০ এর সার্টিফায়েড রিপোর্টে দেখা যায়, ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেড-এর নামে প্রায় ২৪ কোটি ১ লাখ টাকা ঋণ অনাদায়ী রয়েছে। একজন পরিচালক হিসেবে এই আর্থিক দায় হলফনামায় উল্লেখ করা আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

তৃতীয়ত, বিভিন্ন ব্যাংকিং সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা একটি বড় অংকের ঋণ অনিয়মিত কিস্তি পরিশোধের কারণে সম্প্রতি পুনঃতফসীল করা হয়েছে। পাশাপাশি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় উল্লেখযোগ্য অংকের ঋণ আউটস্ট্যান্ডিং থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে—যা হলফনামায় প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও গোপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি পাঁচ দফা দাবি
বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচটি সুস্পষ্ট দাবি জানানো হয়:

১. মাওলানা হাবিবুর রহমানের হলফনামায় কোম্পানি-সম্পর্কিত শেয়ার ও আর্থিক দায় সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা প্রদান।

২. RJSC-এর ফর্ম-১২ ও শিডিউল-১০ অনুযায়ী ডিরেক্টরশিপ ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা।

৩. সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ ও প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ আউটস্ট্যান্ডিং ও রিসিডিউলিং সংক্রান্ত তথ্য যাচাই।

৪. হলফনামায় তথ্য গোপনের কারণ সম্পর্কে প্রার্থীর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি।

৫. রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান।

সহনশীল রাজনীতির আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একসঙ্গে ছিলাম। এই সময়ে নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষ ও সংঘাত নয়, বরং এক হয়ে দেশ গড়ার সময়।”

তিনি বলেন, জনগণ এখন কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছে। অথচ কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা কাম্য নয়।

সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা

সংবাদ সম্মেলনের শেষে বিএনপি নেতারা শান্তিপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও সম্মানজনক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা শান্ত থাকব, আইন মেনে চলব। কোনো উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় জড়াব না। জনগণই চূড়ান্ত বিচারক।”

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।