BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৪৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদাবাজি-ঘুষ বন্ধ হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে: সিলেটে জামায়াতের আমির


ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৫:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের এক ইঞ্চি জমিতেও বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রুট বন্ধ করতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপর আল্লাহতালা যদি আমাদেরকে এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো অফিস-আদালত বা কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে প্রতিটি নাগরিক। তিনি দাবি করেন, নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনসাফভিত্তিক নয়। “সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এটা পর্যাপ্ত নয়,” বলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনি তার একান্ত প্রয়োজন পূরণ না করে, সে যদি তার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোনো অপরাধ করে রাষ্ট্রের কোনো অধিকার নাই ওই অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়ার। আগে তাকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করেছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফেরত দেয় তাহলে অবশ্যই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু যদি ফেরত না দেয়, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত করা হবে এবং সেই অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে। “যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত, সেই এলাকাতেই সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে,” বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হব কি না আল্লাহ ভালো জানেন। কে হবেন, কে হবেন না এটা আল্লাহর ফয়সালা।” তবে দায়িত্ব পেলে ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান জানান।

তিনি বলেন, যদি এমন কিছু আমার দায়িত্বে এসে যায়, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বেইনসাফি করতে পারব না। প্রতি ইঞ্চি মাটি তখন আমার কাছে তার পাওনা বুঝে নেবে।

জনসভা শেষে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারলে জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বাস্তব রূপ পাবে এবং সেই বাংলাদেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।