BD SYLHET NEWS
সিলেটসোমবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:০৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এপস্টেইন সম্পর্কিত লাখ লাখ নথি প্রকাশ, ট্রাম্পের নাম এসেছে শত বার


জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যৌন অপরাধী এপস্টেইন সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এর মাধ্যমে সরকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সংখ্যায় নথি প্রকাশ করা হলো।

এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ত্রিশ লাখ পাতা, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশ করা নথিপত্রগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার। সব নথিপত্র প্রকাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত আইনের সময়সীমা উত্তীর্ণ হবার ছয় সপ্তাহ পরে এসে এগুলো প্রকাশ করা হলো।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, ‘এগুলো আজ প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ ও বিস্তারিতভাবে নথি খুঁজে বের করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে আইন মেনে চলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এগুলোর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।’ এই নথিগুলোর মধ্যে আছে জেফরি এপস্টেইনের কারাগারের থাকার সময়ের বিস্তারিত তথ্য, যার মধ্যে তার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক রিপোর্ট ও জেলে থাকার সময়ে মৃত্যুর তথ্য আছে।

এছাড়া এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের নথিও আছে এর মধ্যে। ম্যাক্সওয়েলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সাহায্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রকাশিত নথিপত্রের মধ্যে এপস্টেইন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আদান-প্রদান করা ই-মেইলও রয়েছে।

নতুন প্রকাশ করা নথিগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শত বার। ট্রাম্পের সাথে এপস্টেইেনর বন্ধুত্ব ছিল। তবে তিনি বলেছেন, সেটি চুকে গেছে বহু বছর আগেই এবং তার যৌন অপরাধ বিষয়েও তার কিছু জানা ছিলো না বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এফবিআই গত বছর তৈরি করেছিল এমন একটি তালিকাও আছে। এতে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে কর দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল সেগুলোও রাখা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই কোনো যাচাই না করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা এবং এর পক্ষে কোনো প্রমাণ ছিল না। এই তালিকায় ট্রাম্প, এপস্টেইন এবং আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করে আসছেন এবং এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ করেননি।

সর্বশেষ অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগ নতুন নথির সঙ্গে প্রকাশিত এক বিবৃতির একটি অংশের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু নথিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ রয়েছে। এগুলো ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআইয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

এতে আরও বলা হয়, স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং মিথ্যা। যদি এগুলোর সামান্য বিশ্বাসযোগ্যতাও থাকত, তাহলে সেগুলো অনেক আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

অভিযোগ আজগুবি, বললেন বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের একজন মুখপাত্র সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে থাকা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। গেটস যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন-এমন তথ্যও সেখানে করা হয়েছে। তার মুখপাত্র এসব অভিযোগকে ‘একেবারেই হাস্যকর এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ই-মেইল এপস্টেইনের লেখা বলে মনে হয়, তবে সেগুলো আদৌ বিল গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি-না, তা পরিষ্কার নয়।

ই-মেইল দুটিই এপস্টেইনের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো এবং আবার সেই একই ঠিকানায় ফেরত এসেছে। গেটসের সঙ্গে যুক্ত কোনো ই-মেইল ঠিকানা সেখানে দেখা যায়নি। এছাড়া ই-মেইলই স্বাক্ষরবিহীন।

ই-মেইলগুলোর একটিতে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগপত্রের মতো করে লেখা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ‘পরিণতি সামলাতে’ গেটসের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়েছিল।

‘ডিউককে রাশিয়ান নারীর সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ’

নতুন প্রকাশ করা নথিতে ব্রিটেনের এলিট ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উঠে এসেছে। এর মধ্যে এপস্টেইন ও ‘দ্যা ডিউক’ নামের একজনের মধ্যকার ই-মেইলও আছে। ধারণা করা হয়, তিনি হলেন এন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর। ই-মেইলে ডিনারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অনেক গোপনীয়তা থাকবে।

আরেকটি ই-মেইলে এপস্টে ইন ‘দ্য ডিউক’কে ২৬ বছর বয়সী এক রাশিয়ান মহিলার সঙ্গে পরিচয় করানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই ই-মেইলগুলো আগস্ট ২০১০-এ আদান-প্রদান করা হয়, যা এপস্টেইন একজন নাবালিকাকে প্রলুব্ধ করার দোষ স্বীকারের দুই বছর পরের ঘটনা। এসব ই-মেইলে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নেই।

বিবিসির পক্ষ থেকে এন্ড্রুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি আগে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্যা ডিউক অব ইয়র্ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত বন্ধুত্বের কারণে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে অনেক বছর ধরেই তদন্ত ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি সবসময় কোনো অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

সব নথি প্রকাশ হয়ে গেল?

এপস্টেইন সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশের গল্প এখানেই শেষ হলো কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, নথিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে নথি খুঁজে যাচাই করার দীর্ঘ ও বিস্তারিত কাজ শেষ হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে বিচার বিভাগ তার কাজ শেষ করেছে।

তবে, ডেমোক্র্যাটরা এখনও দাবি করছেন যে, বিচার বিভাগ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই সম্ভবত প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার নথি আটকে রেখেছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রোহ খানা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস মেসির সঙ্গে মিলে এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন যে, এ বিষয়ে সতর্ক।

থমাস মেসি আরও জানান, ‘বিচার বিভাগ জানিয়েছে তারা ৬ মিলিয়নের বেশি পেজ শনাক্ত করেছে, কিন্তু যাচাই ও কিছু অংশ কাটছাট করার পর মাত্র প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন পেজ প্রকাশ করা হয়েছে।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।