BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমসি কলেজে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায়ের অপেক্ষা


জুলাই ১৪, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি-পিপি আবুল হোসেন।

এর আগে বুধবার আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

পিপি আবুল হোসেন বলেন, “মামলার আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।”

আলোচিত এই মামলার আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

তারা হলেন-বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন।

পরদিন সকালে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব।

মামলা থেকে আরও জানা গেছে, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেছেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন।

পরে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।

এছাড়া ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা করা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।

আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।

মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।