BD SYLHET NEWS
সিলেটমঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু হত্যার পর মানুষের মধ্যে মিশে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাকির: পুলিশ


মে ১২, ২০২৬ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেট নগরের কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুকে হত্যার পর অভিযুক্ত জাকির এলাকাবাসীর সঙ্গে খোঁজাখুঁজি ও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। মঙ্গলবার (১২ মে) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন,‍ “ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময় তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।”

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, জাকিরের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, গত ৬ মে সকালে শিশুটিকে একটি দোকান পাঠানো হয়। শিশুটি ফিরে এলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে জাকির। ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে মধ্যরাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় ডোবার পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “সিলেট মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।”

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।