সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি জলমহালের জায়গা দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ও তাঁর ভাই দিলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তারা ‘ছোট সাতবিলা বড় সাতবিলা গ্রুপ জলমহাল’ এলাকায় মাটি খনন করে পুকুরের আকৃতি দিয়েছেন।
এই জলমহাল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত জাতীয় নির্বাচনের পর আবার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লোকদের সঙ্গে নতুন করে কৃষক দল নেতার বিরোধ দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় সহিংসতা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার লোকজন। জাকির ও তাঁর ভাইসহ পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে থানায় মামলা করেছেন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য জাফর আলী। জাকিরের বিরুদ্ধে গত বছর ১১ নভেম্বর ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতির অভিযোগে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে জাকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি পানির জন্য খাল খনন করেছেন; কারও জলমহাল দখল করেননি।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা ও রাজেন্দ্রপুর মৌজায় ছোট সাতবিলা ও বড় সাতবিলা গ্রুপ জলমহালের অবস্থান। মহালটি পাঁচ বছরের জন্য ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছিল স্থানীয় মায়ের দোয়া ডুকরিয়া সাতবিলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। ২০২৩ সালে ইজারা প্রদানের পর কৃষক দল নেতা জাকির হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। তখন মৎস্য আহরণে সমিতিকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে তৎকালীন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌফিক হাসান কবির শুনানি করেন। জাকির হোসেন তাঁর দাবির পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি উল্লেখ করে মৎস্য কর্মকর্তা ওই বছরের ২৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে সরকারি জলমহালে কাজে বাধা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ ছাড়াও সরকারি জায়গা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।
সমিতির সভাপতি আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, গত দুই বছর কোনো বাধা না দিলেও গত নির্বাচনের পর জলমহাল দখলের তৎপরতা শুরু করেন জাকির। গত ৫ মার্চ জলমহালের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় তিনি লোকজন নিয়ে জায়গা দখল করে নেন। সেখানে মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুরের মতো গর্ত করেন। এতে বাধা দেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে সমিতির সদস্য জাফর আলী কোম্পানীগঞ্জ থানায় জাকির ও তাঁর ভাই দিলোয়ারসহ পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে তিনি ইজারা নেওয়া জলমহালের ৯০ শতক জায়গা দখল করে শ্রেণি পরিবর্তন করে মেশিন দিয়ে পুকুর তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি জমি চাষের জন্য খাল খনন করেছি। এটি ইজারার জায়গা নয়। আমরা সরকারি জায়গায় বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছি। জমিতে পানি ব্যবহারের জন্য খাল করেছি।’ ২০২৩ সালে মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় মৎস্য কর্মকর্তা পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন। পরে সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি উপজেলা প্রশাসন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
