স্পাের্টস ডেস্ক : বাঁচামরার ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ অলআউট কিনা মাত্র ১৩৬ রানেই। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আজ সেই রানটা ১৫৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে বাংলাদেশের যু্বাদের সেমিফাইনালের আগেই বিদায় করে দিল ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ২০২০ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা তিনটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে এখনই ছুটি পাচ্ছেন না আজিজুল হাকিমরা। ৩১ জুন হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলার আছে তাঁদের।
প্রথম পর্বে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের পেছনে থেকে ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে সুপার সিক্সে ওঠে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হওয়াতেই বিপত্তি। মার্কিনিরা তো উঠতে পারেনি সুপার সিক্সে। ওই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও সুপার সিক্সে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। এসব গ্রুপসঙ্গীদের বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্ট হিসাব করা হয় সুপার সিক্সেও । ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। যার অর্থ সুপার সিক্সটা মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।
অন্য দিকে সুপার সিক্সের ২ নম্বর গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ভারত ও ইংল্যান্ড এই পর্বটা শুরু করেছে ৪ পয়েন্ট নিয়ে। সুপার সিক্সে প্রতিটি দল অন্য গ্রুপ থেকে আসা দুটি দলের বিপক্ষে খেলবে। যার অর্থ প্রথম ম্যাচটি জিতলেই শুধু বাংলাদেশের সম্ভাবনা টিকে থাকত সেমিফাইনালে ওঠার।
সেই চাপটা নিতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা। টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে ৩৮.১ ওভারে অলআউট ১৩৬ রানে। প্রথম ওভারে জাওয়াদ আবরারের বিদায়ের পর অধিনায়ক আজিজুল হাকিমকে নিয়ে ওপেনার রিফাত বেগ ৪৬ রান যোগ করেন। ইংলিশ অফ স্পিনার ফারহান আহমেদ রিফাতকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন জুটি। ৩৬ বলের ৩১ রান করা রিফাতের বিদায়ের পর নিয়মিত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম, উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৫) ছাড়া আর কেউ ২০ রানও পাননি।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের পেসার আল ফাহাদ তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে জোসেফ মুরসকে ফেরান। আগের বলেই সহজ ক্যাচ তুলেও সামিউন বাসীরের ব্যর্থতায় বেঁচে গেলেও পরের বলে ডিপ থার্ডম্যানে স্বাধীন ইসলামের অসাধারণ এক ক্যাচের শিকার হন ৬ বলে ১ রান করা মুরস।
ফাহাদ পরে আরেক ওপেনার বেন ডকিন্সকে (২৯ বলে ২৭ রান) যখন ফেরালেন ইংলিশ যুবাদের স্কোর ৯ ওভারে ৩৯/২। সেখান থেকে অধিনায়ক টমাস রুকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি বেন মায়েসের। ৩৪ রান করা মায়েসকে যখন ফেরালেন সামিউন, ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া বাংলাদেশের । অধিনায়ক রু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫৯ রানে। ম্যাচসেরাও হয়েছেন রু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ অ-১৯ দল: ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ (রিফাত ৩১, আবদুল্লাহ ২৫, আজিজুল ২০; মরগান ৩/২৮, আলবার্ট ২/১৫, লামসডেন ২/১৮)।
ইংল্যান্ড অ-১৯ দল: ২৪.১ ওভারে ১৩৭/৩ (রু ৫৯*, মায়েস ৩৪, ডকিন্স ২৭; ফাহাদ ২/৩৭)।
ফল: ইংল্যান্ড অ-১৯ দল ৭ উইকেটে জয়ী।
