বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
সিলেটের ৩ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যু বিয়ানীবাজারে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা: আটক ৫, ভোট গ্রহণ স্থগিত হঠাৎ বন্যার ঝুঁকিতে সিলেটসহ যে ৬ জেলা কোম্পানীগঞ্জে ধলাই নদীতে পাথর আনতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে সারা দেশে ২১ জনের মৃত্যু সকল বয়সের ভোটারদের পছন্দ আনারস প্রতিকের প্রার্থী স্মরণ সিলেটে শাহজালালের দুই দিনব্যাপী ওরস শুরু ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পৌনে তিন কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন তাহিরপুরে কুপিয়ে মৃত ভেবে জঙ্গলে ফেল গেল যুবককে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ১১ জনের মৃত্যু সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভূক্তি বাতিলের দাবিতে সিকৃবিতে মানববন্ধন ভারতে শিশু হাসপাতালে আগুনে ৭ নবজাতকের মৃত্যু ভারতে মিলল বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ১৬ কেজি স্বর্ণ গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন: রাজেকুজ্জামান রতন




সারাদেেশে তীব্র গরমে শ্রমজীবী মানুষের হাঁসফাঁস

1713618078.Rikshaw - BD Sylhet News




বিডিসিলেট ডেস্ক : মেরাদিয়া হাট থেকে যাত্রী নিয়ে দুপুর আড়াইটায় রামপুরা ব্রিজে পৌঁছান রিকশাচালক হযরত আলী। প্রচণ্ড গরমে শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে তার গোসল করার মতো অবস্থা।

যাত্রী নামিয়েই রিকশাটাকে একপাশে রেখে ক্লান্ত শরীরে গিয়ে দাঁড়ান ডাব বিক্রেতার কাছে। দাম কত জানতে চাইলে বিক্রেতা উত্তর দেন ১৫০ টাকা। ডাবের এমন দাম শুনে হতাশ হয়ে পাশের শরবত বিক্রেতার কাছ থেকে দশ টাকায় এক গ্লাস শরবত কিনে খান।
হযরত আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দেড় মাস আগে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় এসেছেন রিকশা চালাতে। প্রতি ঈদেই কিছুটা বাড়তি আয় রোজগার করার আশায় ঢাকায় আসেন। তীব্র গরম, রোদ-বৃষ্টি যাই থাকুক না কেন, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য টাকা আয় করতে ক্লান্ত শরীরকে বিশ্রাম দেবার ফুরসত নেই তার।

রিকশাচালক হযরত আলী বলেন, তীব্র গরমে অসুস্থ (সর্দি ও পেট খারাপ) হয়ে দুই দিন রিকশা চালাতে পারিনি। আজ বের হয়েছি রিকশা নিয়ে। ঢাকায় থাকি না বলে কোনো রিকশা গ্যারেজ আমাকে অটোরিকশা (ব্যাটারি চালিত রিকশা) ভাড়ায় দেয় না। অটোরিকশা থাকলে গরমে কষ্টটা একটু কম হয়। বাধ্য হয়ে এই গরমেও প্যাডেল রিকশা চালাতে হচ্ছে। সারা দিন তীব্র গরমের মধ্যে রিকশা চালিয়ে পানি আর শরবত খেতেই অনেক টাকা চলে যায়। এত গরম জীবনেও দেখি নাই।

দিন দশেক ধরে টানা তাপপ্রবাহের মধ্যে শনিবার (২০ এপ্রিল) দেশে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য দিনগুলোতেও ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত হচ্ছে ভ্যাপসা গরম।

তীব্র গরমের কারণে হাঁসফাঁস করছে মানুষজন। প্রচণ্ড তাপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সারা দেশে বয়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বিভিন্ন রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র গরমে তাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষ।

সেগুনবাগিচা এলাকার রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম বলেন, এই গরমে রিকশা চালানো যায় না। রোদের তীব্রতায় মাথা ঘুরে যায়। তবুও বাধ্য হয়ে কাজ করছি। কারণ, পরিবার চালাতে হবে।

দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার নির্মাণশ্রমিক আনোয়ার হোসেন প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছেন। কাজের ফাঁকে পাশের এক চায়ের দোকান থেকে স্যালাইন ও পানি কিনেছেন। তিনি বলেন, উপরে কড়া রোদ, নিচে গরম পাথর, মাঝখানে আমরা। এই গরমে কাজ করা খুব কষ্টকর। পরিবারের দিকে তাকিয়ে দিনমজুরদের কাজ করতে হয়। এই গরম আর সহ্য হয় না। বৃষ্টি কবে পড়বে সেই আশায় আছি!

শুধু আনোয়ার হোসেনই নয়, বৃষ্টির প্রতীক্ষায় রয়েছে দেশের প্রতিটি মানুষ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে গরম আরও বাড়তে শুরু করেছে।

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৪
Design & Developed BY Cloud Service BD