রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
ই-পাসপোর্ট জটিলতায় স্পেনে ৬শত প্রবাসীর বৈধ হওয়া অনিশ্চিত! মেসির ম্যাজিকে স্বস্তির জয় পেল আর্জেন্টিনা এমবাপ্পে ঝলকে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে ফ্রান্স মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে প্রাণ গেল দুই বন্ধুসহ নিহত ৩ মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখলেন মেক্সিকান গোলকিপার চিকিৎসকেরা সম্মেলনে, ৩৯ ঘণ্টা মর্গে পড়ে ছিল এক শিশুর লাশ বেতন নেবেন না মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী বাস থেকে ৬৩৭ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ১২ সিলেটে কিনব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৯ মাসে নিম্ন আদালতে ১০ লাখ ৭২ হাজার মামলা নিষ্পত্তি গণসমাবেশ সফল হওয়ায় সিলেট মহানগর বিএনপিকে মোঃ শামীম আহমদ চৌধুরীর শুভেচ্ছা কুমারগাঁও-বিমানবন্দর সড়কে চারলেন কাজের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দোলনের নামে বোমা, অত্যাচার করলে একটাকেও ছাড়ব না: শেখ হাসিনা পুরোনো স্মার্টফোন কাজে লাগানোর ৫ উপায় ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ বুবলীর প্রতি অপুর বিশ্বাসের ইঙ্গিত




শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

FB IMG 1664601554804 - BD Sylhet News




বিডি সিলেট ডেস্কঃউলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর আর ঢাকের বাদ্যিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হলো আজ (শনিবার) থেকে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ (শনিবার) মহাষষ্ঠী। রাত ৯টা ৫৭ মিনিট অবধি তিথি থাকবে।

এর আগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দেবীর বোধন। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের এ উৎসবের।

দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন- বাধাবিঘ্ন ভয় দুঃখ শোক জ্বালা যন্ত্রণা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও। দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী একত্রিত হন, মিলিত হন আনন্দ-উৎসবে। তাই এ উৎসব সর্বজনীন। এ সর্বজনীনতা প্রমাণ করে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশে আমরা সব ধর্মীয় উৎসব একসঙ্গে পালন করি। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। প্রত্যেকে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সব ধর্মের মানুষ সমভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে।

শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গা গজে (হাতি) আসছেন, আর বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। পহেলা অক্টোবর রাত ৯টা ৫ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ উৎসব। ওইদিন মা দুর্গা কৈলাশ থেকে আসবেন ধরাধাম চিত্রালয়ে।

দেবী আসেন আসুর নিধন করার জন্য। অসুররুপী শয়তান যারা অর্থাৎ, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মূলত তাদেরকে নিধন করার জন্য মা দুর্গার আবির্ভাব ঘটে।

খুলনা জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। পাঁচ অক্টোবর বিজয় দশমির মধ্য দিয়ে শেষ হবে বৃহৎ এ দুর্গোৎসব। সরকারি নির্দেশনা মেনে পূজা উদ্যাপনে প্রস্তুত আয়োজকরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।

এ বছর মহানগরী ও জেলায় এবার ১০২৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসব পালন করা হবে। এর মধ্যে মহানগরীর আটটি থানায় ১৩০টি ও জেলার নয়টি উপজেলায় ৮৯৫টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। মহানগরী ও জেলায় গত বছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ছিলো ১০০২টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ২৩টি। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে একটি ও জেলায় ২২টি।

মহানগরীর আটটি থানার মধ্যে খুলনা সদরে ২৮টি, সোনাডাঙ্গায় ১১টি, খালিশপুরে ১০টি, দৌলতপুরে ১৯টি, খানজাহান আলীতে ৬টি, হরিণটানায় ৫টি, লবণচরায় ৯টি ও আড়ংঘাটা থানায় ৪২টি মণ্ডপে পূজা উৎসব পালন করা হবে।

এছাড়া জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে রূপসায় ৭৬টি, তেরখাদায় ১০৯টি, দিঘলিয়ায় ৬০টি, কয়রায় ৫৬টি, পাইকগাছায় ১৫৪টি, ডুমুরিয়ায় ২০৬টি, ফুলতলায় ৩৪টি, দাকোপে ৮৫টি ও বটিয়াঘাটায় ১১৫টি মণ্ডপে পূজা উৎসব পালিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও নগরীর বড় বাজার, কালিবাড়ি, ধর্মসভা, শীতলাবাড়ি পূজা মণ্ডপ, দোলখোলার শীতলাবাড়ি মন্দিরে পূজারীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

স¤প্র্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনের লক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সবধরণের নিরাপত্তা বিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। প্রত্যেক পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আরতির সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নজর রাখতে হবে। প্রত্যেক পূজামণ্ডপের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে।

খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি কৃষ্ণ পদ দাস সময়ের খবরকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে খুলনা জেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সভায় বেশকিছু নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। সকল নির্দেশনা মেনেই দুর্গোৎসব উযাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের ঘোষিত ২১ দফা নির্দেশনা মেনেই খুলনা জেলার প্রত্যেকটি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপন করা হবে।’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ শ্যামল কুমার দাস বলেন, ‘এ বছর দেবী দুর্গা গজে আসছেন, আর বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। পহেলা অক্টোবর রাত ৯টা ৫ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।’

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD