মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ছাতকে সাংবাদিক অলিউর রহমানের মাতৃবিয়োগ:শোক বড়লেখায় পূজামণ্ডপে নিসচা’র সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ দেশে ফিরেছেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র, বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা বিদেশি মুসল্লিরা ১ নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন সোমবার দেশে ফিরছেন বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নয় সাংবাদিকতা যেন ‘নীতিহীন’ না হয় : প্রধানমন্ত্রী গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন পুজামন্ডপ পরিদর্শনে এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান নবমীতেও পূজামন্ডপ পরিদর্শনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ আইজিপি’র সাথে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাত ছাতকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পিকাপসহ ৭ ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ অসুস্থ রায়হানের মা, অনশন ভাঙ্গালেন মেয়র আরিফ বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রায়হানের মায়ের আমরণ অনশন করোনা মুক্ত হলেন তথ্যমন্ত্রী
cloudservicebd.com

বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় মোশতাকের সহযোগী ছিলেন জিয়া: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

20200816 221113 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট নিউজ ডেস্ক:: পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে উচ্চাভিলাষী খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার বিকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে সেইদিন কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশীদ, মেজর হুদা, মেজর ডালিম, মেজর শাহরিয়ার, মেজর পাশা সামরিক অফিসার এরা সকলেই যেমন, মহিউদ্দিন, মাজেদ, মোসলেহউদ্দিন, রাশেদ, খায়রুজ্জামানসহ সকলেই জড়িত ছিল।”

কিন্তু এই সামরিক অফিসারদের কারা, কে মদদ দিয়েছিল এবং তাদের পেছনে কে ছিল- প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমার বাবার কেবিনেটেরই এক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক, তার উচ্চাভিলাষ আর তার সহযোগী জিয়াউর রহমান, যে একজন মেজর ছিল, যাকে প্রমোশন দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মেজর জেনারেল বানিয়েছিলেন, সে এর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল।

“সেটা স্পষ্ট পাওয়া যায় এই হত্যাকাণ্ডের পর…কর্নেল ফারুক এবং কর্নেল রশীদ তারা একটা ইন্টারভিউ দেয়, যেখানে তারা স্পষ্ট বলে যে তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল এবং তার মদদেই তারা এই ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।FB IMG 1597594215267 - BD Sylhet Newsপ্রধানমন্ত্রী বলেন, “…সেটা আরও প্রমাণ হয় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, তিনি রাষ্ট্রপতি… তাকে হত্যার পর সেখানে সংবিধান মানা হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব কিন্তু রাষ্ট্রপতি হননি। রাষ্ট্রপতি ঘোষিত হল খন্দকার মোশতাক। আর খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হয়েই জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বানালো সেনাবাহিনীর প্রধান।

“জেনারেল জিয়াউর রহমান মোশতাকের সাথে যদি এই ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত না থাকে তাহলে কেন মোশতাক তাকেই বেছে নেবে সেনাপ্রধান হিসেবে? ওই খুনিদের সব ধরনের মদদ দেওয়া…এটা তো জিয়াউর রহমানই দিয়েছিল। এখানেই তো তাদের শেষ না। মোশতাক..বেঈমানরা কখনও ক্ষমতায় থাকতে পারে না। মীর জাফরও পারেনি। মীর জাফরকে যারা ব্যবহার করেছিল সিরাজদ্দৌল্লাকে হত্যা করতে…মীর জাফর দুই মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ঠিক মোশতাকও পারেনি।”

খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে জিয়াউর রহমান আইন লঙ্ঘন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল জানিয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই খুনিরা যারা শুধু ১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি, ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যারা হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তাদেরকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, ব্যাংকক হয়ে তাদেরকে লিবিয়াতে পাঠানো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে…জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়েই এই খুনিদেরকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।”

জিয়াউর রহমান জাতির পিতার খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটি আইন করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

“জিয়াউর রহমান যেটুকু করে গিয়েছেন তারপর তার স্ত্রী আসার পর তো আরও বেশি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে কি করেছে? সকলে নিশ্চয়ই ভুলে যাননি।”

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুযারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে কোনো দল অংশ নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নামকাওয়াস্তে কিছু দল জুড়ে দিয়ে একটা নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছিল। সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সেই নির্বাচন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভোটাররাও ভোট দিতে আসেনি।

“তারপর খালেদা জিয়া নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা দেন। আর সেই নির্বাচনে কর্নেল রশীদকে নির্বাচিত করা হলে, মেজর হুদাকে নির্বাচিত করা হল। তাদেরকে পার্লামেন্টে বসানো হল এবং সেই খুনি কর্নেল রশীদকে বিরোধীদলের আসনে বসানো হয়েছিল।”খুনিদের প্রতি খালেদা জিয়ার এত দরদ কেন, প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই খুনিদের তালিকায় যারা ছিল অনেকে বিদেশে। পাশা, সে মারা যায় বিদেশে। আর খায়রুজ্জামান সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।”

পাশা মারা গেলেও তাকে পদোন্নতি দেয়া এবং খায়রুজ্জামানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে পুনর্বহাল করার কথা তুলে খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন তিনি।

“তার স্বামী যা করেছে…জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী…তাদের ইনডেমনিটি আর সে এসে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে গেছে,” বলেন সরকার প্রধান।

সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৭ - ২০২০
Design & Developed BY Cloud Service BD