মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
স্বামী পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী, ঘাতক স্ত্রী আটক কোহলির আরও একটি রেকর্ড ভাঙ্গলেন বাবর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন শাকিব খান বন্যাদুর্গত এলাকায় কাটা রাস্তায় সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হজ পালনের জন্য সৌদি পৌঁছেছেন ৪২ হাজার হজযাত্রী মহাসড়কে শতাধিক পরিবারের বসবাস, রাত কাটছে ভয়-আতঙ্কে সিলেটে সরকারি উদ্যোগে আড়াই কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ সিলেটে বন্যাকবলিত এলাকায় শিক্ষা নিয়ে আশঙ্কা সিলেটে ভয়াবহ বন্যার বড় কারণ হাওর দখল: গবেষণা সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০০ কোটি টাকার সড়ক-সেতু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ট্রাকের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার ত্রাণের কোন সংকট নেই, প্রচুর ত্রাণসামগ্রী স্থানীয় প্রশাসনের হাতে রয়েছে: হানিফ সিলেটে পানি কমছে ধীর গতিতে বানভাসীদের চরম দুর্ভোগ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করলো এনআরবি ব্যাংক ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে কটূক্তি, যুবক গ্রেফতার




সিলেট-সুনামগঞ্জে রাস্তায় রাস্তায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষা

Untitled 2 copy 4 - BD Sylhet News




বিডিসিলেট ডেস্ক : সিলেট এবং সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত। উজানের উপজেলাগুলোর পানি কমতে থাকলেও ভাটির দিকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বাড়িঘরে পানি উঠায় নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন অনেকে। ওদিকে ত্রাণ তৎপরতা বাড়লেও এখনো অনেক মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায়। সুনামগঞ্জে যেসব সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে সেখানে ভিড় করছেন মানুষ। তারা সড়কে অবস্থান করছেন ত্রাণের গাড়ির অপেক্ষায়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন অনেক বেসরকারি সংস্থা। ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন দুর্গত এলাকায়। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখনো অনেকে ত্রাণের আওতায় আসেননি।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম (৩৮)। দুই হাত, দুই পা নাই। ৫ জনের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। হুইলচেয়ারে ঘুরে ভিক্ষা করে যা পান ও মানুষের সহযোগিতার টাকা দিয়ে সংসার চালান।

বন্যায় তাজুল ইসলামের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পরিবার নিয়ে উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এতদিন চিঁড়া মুড়ি খেয়েই কাটিয়েছেন। পঙ্গু হওয়াতে ত্রাণের গাড়ি আসলে অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাবার সংগ্রহের ক্ষমতা তার নাই। কেউ দয়া করে কিছু দিলে সেটা খেয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। নিম্নশ্রেণি থেকে শুরু করে ধনী ঘরের মানুষরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে শত শত বাড়িঘর। শত শত টন ধান চাল নষ্ট হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে গরু, ছাগল মুরগি। শত শত পরিবার তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। বাড়িঘর হারা এসব মানুষের ঠিকানা এখন সিলেট সুনামগঞ্জ মহাসড়ক। অনেকে এক কাপড়ে রাস্তার দুইপাশে খুপরি ঘর তৈরি করে বাস করছেন। আর কেউ কেউ নিজের সঙ্গে উদ্ধার করা কিছু আসবাবপত্র, গরু ছাগলকে রেখেছেন। একসপ্তাহ ধরে শান্তিগঞ্জের হাজার হাজার বানভাসি মানুষ ঘরে চুলা ধরাতে পারেননি। গতকাল সরজমিন শান্তিগঞ্জের জলকলস, পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও, শিমুলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাওর ঘুরে দেখা যায় বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত গ্রাম থেকে গ্রাম। ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়ন।

চারদিকে শুধু পানি আর পানি। সবক’টি গ্রাম ও ইউনিয়নের সড়ক পানির নিচে। অন্যান্য ফাঁকাস্থানে ৭ থেকে ৮ ফুট কোথাও আরও বেশি। পানিতে ভাসছে মানুষের বিভিন্ন আসবাবপত্র। সুলতানপুর, আস্তমা, ইমামনগর, হাসনাবাদ, তেঘরিয়া, পার্বতীপুর, শিবপুর, জয়কলস, ফতেপুর, উজানগাঁও, চমুখালীসহ আরও কিছু গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বন্যায় বিধ্বস্ত বাসিন্দারা কোথাও যাওয়ার উপায় না পেয়ে নিজ ঘরে এক খাটের উপর আরেক খাট দিয়ে বসে বসে দিন পার করছেন। পানির কারণে চুলা ধরিয়ে রান্না করতে পারছেন না। একপোয়া চিঁড়া মুড়ি দিয়ে কয়েকদিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। সুলতানপুরের তাহেরা বেগম বলেন, আমাদের পরিবারে সবমিলিয়ে ১২ জন সদস্য। বন্যায় বাড়িঘর ভেঙে গেছে। ৪/৫ দিন ধরে উপজেলা পরিষদের একটি ভবনে উঠেছি। রাস্তা দিয়ে কোনো ত্রাণের গাড়ি গেলে আমরা সবাই মিলে থামাই। তাদের কিছু দিয়ে যায়। সবাই চিঁড়া মুড়ি দেয়। এখন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখনো পানির নিচে আমাদের বাড়ি। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে এখানে আর থাকা যাবে না। আমাদের বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য। জয়কলসের জাকির হোসেন বলেন, সারাদিন ধরে না খেয়ে আছি। এখনো কিছু পাইনি। দু’দিন চিঁড়া মুড়ি পেয়েছিলাম। এখন আর কিছু পাচ্ছি না।

আশেপাশের গ্রামের সব মানুষ এখন রাস্তায়। শিবপুরের বেগম আক্তার বলেন, সাতজনের পরিবার আমাদের। কোমর সমান পানি। ঘরের ভেতরে মাচাং তৈরি করে তার উপরে আছি। না খেয়ে খেয়ে ক’দিন পার করেছি। কিন্তু পেট আর মানতেছে না। তাই একটু পানি কমায় এখন পানির মধ্য দিয়ে সাঁতরিয়ে ত্রাণ নিতে এসেছি। ফতেপুরের হেলিম মিয়া বলেন, বন্যা তো হয়নি আমাদের কপাল পুড়ছে। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ঘর তৈরি করেছিলাম। সেই ঘর ভাসালো। এখন পেটের চিন্তা করবো না ঘর ঠিক করবো। বড় পরিবারের খাবার সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হয়। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার ছোট শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাদের মা-বাবা। বিশুদ্ধ খাবার পানি শুকনা কাপড়, দুধ ও বড় বাচ্চাদের ভাতের সমস্যা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। কারণ বড়দের মতো চিঁড়া মুড়ি খেতে পারছে না শিশুরা। আর দুধ বা ভাতের ব্যবস্থাও করা যাচ্ছে না। তারা যা ত্রাণ পাচ্ছেন তারমধ্য চিঁড়া, মুড়ি, গুড়, নাপা, স্যালাইনসহ আরও কিছু জিনিস থাকে।

এগুলো শিশুদের কোনো প্রয়োজনে আসে না। আস্তমা গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন, ঘরে ছোট ছোট বাচ্চারা আছে। তাদের মুখে আজ কতদিন ধরে ভাত দিতে পারছি না। চুলা জ্বালানোর উপায় পাচ্ছি না। তাদের তো একটু ভালো পানিও খাওয়াতে পারছি না। জয়কলসের ইউসুফ কারী বলেন, নিজে না খেয়ে আছি কষ্ট নাই। ছোট বাচ্চাদের কষ্ট দেখলে বুক ফেটে যায়। চরম সংকট শিশু খাদ্যের। এসব খাবার দিয়ে তাদেরকে সামলানো যাচ্ছে না। সুলতানপুরের ইয়াসমিন বলেন, শিশুদের জন্য সমস্যাটি বেশি। ওদিকে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষরা এখন সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের দুই পাশকে অস্থায়ী আবাসস্থল করে নিয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান পাননি তারা রাস্তার পাশে বাঁশ টিন দিয়ে থাকার জায়গা করেছেন। ব্যস্ত সড়কে তারা যেমন ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন ঠিক তেমনি তাদের সঙ্গে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও রেখেছেন। তাহের আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, চড়কআটি এলাকায় আমার বাড়ি। বন্যায় বাড়ি নিয়ে গেছে। আশ্রয় পাইনি কোথাও। তাই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার পাশে আছি। বিপর্যস্ত সিলেট: বিপর্যস্ত সিলেট। খাবার নেই। সুরমার পর কুশিয়ারার তাণ্ডব শুরু।

নতুন করে আরও ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি। উদ্ধারে চলছে প্রাণান্তর লড়াই। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে মানুষ। তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে। খাদ্য সংকট প্রবল হচ্ছে। ত্রাণের গাড়ি দেখলেই ছুটছে মানুষ। কাড়াকাড়ি চলছে। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা জোরালো না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অসহায়। কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান গতকাল জানিয়েছেন, তার উপজেলায় প্রায় ৫০টির মতো বাড়ি ভেসে গেছে। এখনো অনেক এলাকা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কেউ কেউ নিখোঁজ থাকার খবরও মিলছে। কোম্পানীগঞ্জের চেয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি গোয়াইনঘাটে। এখনো বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ৮০ ভাগ এলাকা। বৃষ্টি থামায় নৌকাযোগে মানুষ খাবার নিয়ে যাচ্ছে। গোয়াইনঘাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, ঢলে মানুষের আর অবশিষ্ট কিছু নেই। শতাধিক বাড়িঘর ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। রাস্তার পাশের লোকজন ত্রাণ পাচ্ছেন। কিন্তু দুর্গম এলাকায় এখনো হাজার হাজার মানুষ অভুক্ত রয়েছে। তাদের কাছে এখনো পৌঁছেনি শুকনো খাবার।

গোয়াইনঘাটের মানুষের ঘরে কোনো খাদ্য নেই। সবই ভাসিয়ে নিয়েছে প্রলয়ঙ্করি বানের জল। জৈন্তাপুরের দুর্গম এলাকাগুলোতে মানুষ অভুক্ত। হাওর এলাকায় শুকনো খাবার খেয়ে মানুষ বসবাস করছে। রান্না করা খাবার এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি। চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেই। শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। সবাই বন্যার্ত। এ কারণে কেউ কারও খবর নিতে পারছে না। আর পানিও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ কারণে বেড়েছে দুর্ভোগও। উপজেলার হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। সিলেট সদরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গতকাল সদরের দুর্গম দাবাকান্দি এলাকায় খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ। খবর পেয়ে শ’ শ’ নৌকা নিয়ে সেখানে আসেন বন্যার্ত মানুষ। রোমেনা বেগম, আঙ্গুরা বিবিসহ কয়েকজন মহিলা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখনো বুক সমান পানিতে তাদের বাড়িঘর নিমজ্জিত পুরো দাবাকান্দি। ৪ দিন তাদের খোঁজ নিতে কেউ আসেনি। ত্রাণ দেয়ার খবর পেয়ে তারা ছোটো ছোটো নৌকা নিয়ে এসেছেন। জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ খাবার পাচ্ছে না।

ঘরের চালে, বাড়িতে মাচাং বেধে মানুষজন বসবাস করছে। মানুষের এই দুর্দশার চিত্র দেখে বিচলিত হন পুলিশ কমিশনার। জানালেন, দুর্যোগে তো সবাই। আমরা এই এলাকার খবর পেয়ে এসেছি। পুলিশ খবর নিয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশন মাত্র ৩০ টন চাল পেয়েছে। অথচ আড়াই লাখ মানুষ সিটিতেই বন্যার্ত। ১৫-২০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে। তাদের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়া হলেও এখনো ত্রাণ কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি। ৫ দিন ধরে অনেক এলাকার মানুষ শুকনো খাবার খেয়ে দিন যাপন করছেন। এখন তাদের কাছে চাল, ডালসহ পণ্য সামগ্রী পৌঁছানো দরকার। সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানিয়েছেন, প্রায় ১৪ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তবে, যেসব এলাকায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হচ্ছে; সেসব এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হচ্ছে। সিলেটের জিনিসপত্রের মূল্য নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। খাদ্যসামগ্রীর সংকটও চলছে বিভিন্ন এলাকায়। এই অবস্থায় টাকা দিয়েও মিলছে না পন্য।

যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ কয়েকটি উপজেলায় পণ্য সংকট রয়েছে। কোথাও কোথাও দিগুণ দাম নেয়া হচ্ছে। গতকাল বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযানে নেমেছে। সঙ্গে রয়েছেন চেম্বার নেতৃবৃন্দও। সিলেট চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ জানিয়েছেন, সিলেটে পণ্য সংকট ছিল। এখন কাটতে শুরু করেছে। কালীঘাট, কাজীরবাজার এলাকা পানির নিচে। আর যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এখনো কালীঘাটে এসে পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছতে পারছে না। বন্যার কারণে গাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সিলেটে পণ্যমূল্য কিছুটা বেড়েছে। সেটি এখনো অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি। এদিকে, সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেট-৪ আসনের এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার ও সিলেট-৬ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিত। তাদের পক্ষে ত্রাণ কার্যক্রমে তেমন গতি নেই। গত মঙ্গলবার তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিলেটে এসেছিলেন। আবার ফিরেও গেছেন। তবে, সিলেট-৪ আসনের এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ ৫ দিন ধরে নিজ এলাকা জৈন্তাপুরে অবস্থান করছেন। তার পক্ষ থেকে বেসরকারিভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান ও সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান এলাকায় রয়েছেন।

তারা সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ওদিকে নতুন করে কুশিয়ারা তাণ্ডব শুরু করেছে। উজান থেকে আসছে প্রবল ঢল। ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকা। এতে করে অন্তত ৭ লাখ মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বহু এলাকা। নেই বিদ্যুৎ সংযোগও। সিলেটের জকিগঞ্জে এসে বরাক কুশিয়ারা ও সুরমায় রূপ নিয়েছে। আসামের প্রবল বন্যার পানি নামছে বরাক দিয়ে। এতে করে কুশিয়ারা নদী দিয়ে গত রাত থেকে তীব্র স্রোত। জকিগঞ্জ হচ্ছে বরাকের পাদদেশের এলাকা। গতকাল রাতভর হাজার হাজার মানুষ জকিগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী এলাকায় রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিয়েছেন। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে পানি ঢুকছে। কোথা কোথাও বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। এতে করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জকিগঞ্জের পৌর কাউন্সিলর রিপন আহমদ জানিয়েছেন, এতো প্রবল বেগে ঢল জকিগঞ্জের মানুষ আগে কখনো দেখেননি। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা হচ্ছে না মানুষের। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। জকিগঞ্জের ভাটির এলাকা বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ। দুটি উপজেলার শতাধিক গ্রামে পানি ঢুকেছে। শ্যাওলা দিয়ে তীব্র বেগে পানি ঢুকছে। এতে করে দুটি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদী ও তীরবর্র্তী এলাকায় ঢল অব্যাহত থাকার কারণে অনেক এলাকায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব নয়। গোলাগঞ্জের বুধবারী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল আহমদ জানিয়েছেন, নদী দিয়ে কয়েকটি ঘরবাড়ি ভেসে যেতে দেখেন। এখনো বুঝা যাচ্ছে না কী ঘটছে। ঢলের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দুই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি। বিভিন্ন স্থানে নদী উপচে ঢুকছে বানের পানি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বহু এলাকা। সিলেটের সঙ্গে বালাগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD