শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
ছাতকে দূর্গোৎসব শুরু, পূজা মন্ডপ পরিদর্শন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটের সাংবাদিকদেরকে ধন্যবাদ জানালেন ছাতকে নৌ-পথের ছিনতাইকারী ইদন মিয়া গ্রেফতার অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল সিলেটের এম এ শাকুর সিদ্দিকী বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচা’র বর্ণাঢ্য র‍্যালি সিলেটের পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন ১৯ কর্মকর্তা বদলি লাইসেন্সের প্রদানে অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কিবরিয়া হত্যা মামলা : সিলেটের আদালতে বাবরসহ ১১ জন হাজি জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে নিসচা সিলেট মহানগরের বর্ণাঢ্য র‌্যালী হাসপাতালেও নথিপত্র স্বাক্ষর অব্যাহত রেখেছেন- তথ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণে কমনওয়েলথের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান নিরাপদ হলো না সড়ক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের সাথে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা জরুরি : রাষ্ট্রপতি জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ
cloudservicebd.com

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ

20200813 210415 - BD Sylhet News

মো: আবু জাবের:  ঢাক-সিলেট মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কটিতে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝরছে প্রাণ। প্রশাসনের নানা উদ্যোগের পরও প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।শুধু আগস্ট মাসেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

সিলেট বিভাগের সঙ্গে সড়কপথে সারাদেশের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ৩৪ কিলোমিটার অংশ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। আর এই ৩৪ কিলোমিটার অংশ দিন দিন ‘মহাবিপজ্জনক’ হয়ে উঠে যাত্রীদের কাছে রূপ নিচ্ছে আতঙ্কে। প্রতিবছরই এই সড়কে ঝরছে অনেক প্রাণ। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকেই।মুলত চালকদের অদক্ষতা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও মহাসড়ক লাগোয়া অবৈধ স্থাপনা এবং তিন চাকার যানের অবাধ বিচরণের কারণেই রোধ করা যাচ্ছে না দুর্ঘটনা। এর ফলে মহাসড়কে থামছেনা লাশের মিছিল।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৪ কিলোমিটার অংশ আশুগঞ্জ, সরাইল ও বিজয়নগর উপজেলায়। ওই তিন উপজেলার অংশে ঝুঁকিপুর্ণ বাঁক রয়েছে ৮ থেকে ১০টি। এর মধ্যে আশুগঞ্জ গোলচত্বর, শাহবাজপুর তিতাস সেতু সংলগ্ন বাঁক, ভৈশামোড়া, রামপুরা, চান্দুরা, বীরপাশা ও ক্ষেতাবাড়ি এলাকার বাঁকগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।মহাসড়কে এমন কিছু বাঁক রয়েছে এই বাঁকগুলো অতিক্রম করার সময় সড়ক বিভাগ থেকে যানবাহন চালকদের জন্য গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও সেটি মানছেন না চালকরা। ফলে প্রায়ই বাঁকগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও মহাসড়ক লাগোয়া অবৈধ স্থাপনা এবং তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে কমানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনার হার।

মহাসড়কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর-দক্ষিণ সুরমা অংশের ৪১ কিলোমিটার এলাকা এখন যাত্রী ও পথচারীসহ আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য মরণফাঁদ। এই অংশে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যার ফলে প্রাণ দিতে হয় অনেক যাত্রীকে।যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা-সিলেট বিভিন্ন রুটে চলা ফিটনেসবিহীন গাড়ি নেমে পড়ে রাস্তায়। বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং আর চালকদের অবসাবধানতার কারণে বেড়ে যায় মৃত্যুর মিছিল। তাই আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না যাত্রীদের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চালকদের বেপরোয়া গতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এটি রোধে তৎপর তারা।মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি চলার নিয়ম নেই। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অহরহ চলছে এসব গাড়ি।

সরকার নিরাপদ সড়ক করার লক্ষ্যে মহাসড়কে কিছু উদ্যেগ নিয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করার দায়ীত্ব মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু বিগত সময় আমরা দেখেছি চাপের মুখে কিছুদিন দায়ীত্ব ঠিকমতো পালন করলেও পরে তারা আর সেদিকে লক্ষ্যে রাখেন না।এই মহাসড়ক অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কে তিন চাকার যানবাহন কোনো ভাবেই চলতে দেয়া যায় না। এই তিন চাকার গাড়ির জন্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাই এখনই এসব যানবাহন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হতে হবে।

উল্লখ্যে,গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় ওসমানীনগর থানার বড়াইয়া চাঁনপুর নামক স্থানে বাস ও কারের মুখোমুখী সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সিলেটগামী কার যার নং (চট্র মেট্রো- গ ১১-১৯২০) ও ঢাকাগামী কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট এর মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষে কারে থাকা পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভাঙ্গা নামক স্থানে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হন।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৭ - ২০২০
Design & Developed BY Cloud Service BD