বিডি সিলেট ডেস্ক::সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যায় আটকে পড়াদের পাশে সেনাবাহিনী। আজ শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ৮টি ব্যাটালিয়ান পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, জামালগঞ্জ উপজেলাসহ মোট ৮টি উপজেলায় কাজ করছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো, চিকিৎসা সহায়তা, খাবারের ব্যবস্থা, খাদ্য গোদাম রক্ষা, সিলেট কোমারগাঁও পাওয়ার স্টেশন রক্ষা করার কাজে নেমেছে সেনা সদস্যরা।
সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশন প্রধান মেজর জেনারেল হামিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিলেটে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে নগরীসহ সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। পর্যাপ্ত নৌকা ও উদ্ধারকর্মী না থাকায় পানিতে আটকাপড়া মানুষ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য,শুক্রবার সকালে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে ১৭ পদাতিক ডিভিশন সিলেটের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বরার চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
চিঠিতে জেলা প্রশাসক বলেন,‘সিলেট জেলায় অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের ফলে বচন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। অব্যাহতভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা সদরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি উপজেলার অভ্যন্তরিণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও সিলেট সদর উপজেলার সবকয়টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ব্যাপক লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় নৌকা এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি না থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যহত হচ্ছে। জরুরিভিত্তিতে পানিবন্দি লোকদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মানবিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা এবং অন্যান্য সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতার একান্ত প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে।
এমতাবস্থায়,সিলেট জেলার দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ৩০ ধারা মোতাবেক জরুরিভিত্তিতে পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সবিনয় অনুরোধ করা হলো।’
