বিয়ের দাবিতে নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রেমিকের বাড়িতে তিন দিন ধরে অনশন করেন পপি খাতুন (১৯)। অবশেষে গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তার সঙ্গে প্রেমিক ইকবাল হোসেনের (২২) বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বৃগড়িলা গ্রামের সৈয়দ মণ্ডলের ছেলে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে পড়া অবস্থায় তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ইকবালের মা তাদের দুইজনের বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যার কারণে ওই তরুণী প্রেমিক ইকবালের সঙ্গে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়েছিল। প্রেমিক ইকবাল বিয়ের কথা বলে তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করেন।
একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলতেই প্রেমিক বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকে। এ বিষয় নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশও হয়েছে। তবুও বিয়ে করতে নারাজ প্রেমিক ইকবাল। পরে ওই তরুণী কোনো উপায় না পেয়ে গত রোববার (১২ জুন) সকাল থেকে প্রেমিক ইকবালের বাড়িতে অনশনে অবস্থা নেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাতে গ্রাম প্রধানসহ জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়। শেষে ইকবাল ও তার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে পপির সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
১নং নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী প্রামাণিক জানান, বিষয়টি জানার পর দুই পরিবার নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের পর বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নবদম্পতি ছেলের বাড়িতে আছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। জনপ্রতিনিধি ও দুই পরিবারের উপস্থিতিতে ওই তরুণীর সঙ্গে ছেলে ইকবালের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য,বিয়ের দাবিতে গত রোববার (১২ জুন) থেকে প্রেমিক ইকবালের বাড়িতে তরুণী পপি খাতুন অনশনে বসেন।
বিডি সিলেট ডেস্ক/ সূত্র – যুগান্তর /
