BD SYLHET NEWS
সিলেটবুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে নির্মিত নান্দনিক ‘ধোপাদিঘীর’ উদ্বোধন ১১ জুন


জুন ৮, ২০২২ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিডি সিলেট ডেস্ক:: সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে সিসিকের নির্মিত নান্দনিক মহানগরীর ধোপাদিঘীর উদ্বোধন করা হবে আগামী ১১ জুন।সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচীনতম দিঘি ‘ধোপাদিঘী’ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিকল্পনায় নতুন রূপ পেয়েছে। ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এর কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে।  আগামী ১১ জুন শনিবার এর উদ্বোধন করা হবে। ধোপাদিঘীর উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী, ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

এই প্রকল্প ভারত সরকারের ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও সিসিকের আওতাধীন চারাদিঘির পাড় মজলিশ আমিন স্কুল ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ও সিসিকের আধুনিক সুইপার কলোনি নির্মান প্রকল্পে ৬ কোটি টাকাসহ মোট ৩টি প্রকল্পে ভারত সরকার ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন করে। শুধুমাত্র এ প্রকল্পে ভারত সরকার ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ কোটি টাকাসহ ধোপাদিঘী প্রকল্পে মোট ব্যয় হয় ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ওইদিন বাকি প্রকল্পগুলোও উদ্বোধন করা হবে। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেন।

সিসিক সূত্র জানায়, দখল, দূষণ আর ভরাটে এই দিঘিও পড়েছিল অস্থিত্ব সংকটের মুখে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিকল্পনায় নতুন রূপ পেয়েছে ধোপাদিঘি। নগরীর মানুষকে নির্মলতার স্বাদ দিতে এই দিঘিকে বদলে দেওয়া হয়েছে নান্দনিকতায়। দিঘির চারপাশে প্রায় ৫শ’ মিটার দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। দিঘিতে নামার জন্য রয়েছে সুদৃশ্য দু’টি ঘাট। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রাখা হয়েছে টাইলস বসানো বেঞ্চ, রয়েছে টয়লেটও। ধোপাদিঘি এলাকায় সিটি করপোরেশনের মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে দিঘিতে প্রবেশের পথ রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা বেলায় দিঘি এলাকায় থাকছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। তবে শিশুদের খেলার জায়গা ও দিঘির পানিতে প্যাডেল বোট রাখার কথা রয়েছে।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, সিলেটের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ঘেষা নগরীর প্রাচীনতম দিঘী ধোপাদিঘির নামেই ওই এলাকার নামকরণ হয় ধোপাদিঘীর পাড়। একসময় ধোপা সম্প্রদায়ের লোকজন এই দিঘির পানি ব্যবহার করতেন। এতে প্রায় ৬ একর জমি রয়েছে ধোপাদিঘিতে, তন্মধ্যে ৫ একরের মালিকানা সিসিকের, আর ১ একর জমি ধোপা সম্প্রদায়ের লোকজনের নামে রয়েছে। এই দিঘির উত্তর ও পূর্বাংশে মার্কেট, দোকানপাট গড়ে ওঠেছে; দক্ষিণে আছে ওসমানী শিশু পার্ক। দখল আর অবৈধ স্থাপনায় দিঘিটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ২০১৮ সালে দিঘিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিলেট  সিটি করপোরেশন। ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদীঘি’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সিসিক। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০১৮ সালের শেষদিকে ধোপাদিঘি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিসিক। কিন্তু পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের কাজ গতি হারায়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার পুরোদমে শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ, এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এরপর সেটা জনসাধারণের জন্য উম্মোক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানায় সিসিক।
এ প্রসঙ্গে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ধোপাদিঘি রক্ষা করতেই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের মূল কাজ শেষ হয়েছে, এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর জন্য নির্মল পরিবেশে হাঁটাচলার ব্যবস্থা করে দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।’ শিগগিরই এর সুফল নগরবাসী ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।