বিডিসিলেট ডেস্ক : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হরিণ জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে একটি হরিণ আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন একটি হরিণের চার পায়ে বেঁধে বাঁশের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অপর একটি ভিডিওতে চার পায়ে বাঁধা হরিণকে মাটিতে ফেলে রাখতে দেখা গেছে। আশপাশে অনেক মানুষের উপস্থিতি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার আটক করা হরিণটি তাঁর বাড়ির উঠানে নিয়ে গেলে কয়েকজন হরিণটি মরে যাবে বলে জানালে তাঁরা পায়ের বাঁধন খুলে গলায় বাঁধতে গেলে হরিণটি পালিয়ে যায়। তিনি এর বাইরে কিছুই জানেন না।
সিলেটের সারি রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন বলেন, ‘হরিণ জবাইয়ের খবর পাওয়ার পর আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। এ বিষয়ে কেউ কোনো তথ্য না দিলে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
সিলেট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ওয়াইল্ড লাইফ) শহিদুল্লাহ বলেন, হরিণ ধরার ভিডিও থাকলেও সেটি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে এর প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু এর কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খবর নেওয়া হচ্ছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকায় ভারত থেকে বন্য শূকর, হরিণ, বন্য হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করে। অনেক সময় ভারতীয়রা বন্য প্রাণী তাড়া দিয়ে নিয়ে আসেন, আবার শিকার করেও নিয়ে যান। হরিণ আটকের একটি ভিডিও দেখা গেছে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটা হরিণ ধরা হয়েছিল, পরে সেটি ছুটে গেছে। সুত্র: প্রথম আলো
