সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
আসছে বর্ষা, সিলেটে ঝুঁকি নিয়ে টিলায় বসবাস শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সিলেট জেলা আ.লীগের কর্মসূচী ঘোষণা জগন্নাথপুরে ৩ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা জাপানি দুই শিশু: বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন সিলেটে একদিনে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ জন নিহত আইসিইউতে ভর্তি বিএনপি নেতা মঈন খান পুকুরে টাকা ডুবলেই ‘স্বপ্ন পূরণ পানির নিচে খাদেমের কারসাজি’ সিলেট নগরীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু সিলেটে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু উর্মির অভিভাবকের সন্ধান চায় পুলিশ বিশ্বকাপ ট্রফি ৫১ দেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু ‘এখানে কিছু টাকা আছে, এটা দিয়ে আমার দাফন-কাফন করিও’ সিলেটে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে মানুষ সিলেটে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক বড়লেখায় বর্হিবিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফাউন্ডেশন নেতৃবৃন্দদের সংবর্ধনা প্রদান হবিগঞ্জে ভারতীয় চাপাতাসহ চোরাকারবারি আটক




সিলেটে মানব পাচারে সক্রিয় শতাধিক দালাল!

Screenshot 20220510 121118 Facebook - BD Sylhet News




বিডি সিলেট ডেস্কঃ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের অবৈধ পথে ইউরোপ যেতে রাজি করান দালালেরা। ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাপথে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।

গত ২৫ জানুয়ারি ২০২২ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে যেতে নৌকায় চেপে বসেন ২৮৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাঁদের মধ্যে ২৭৩ জনই বাংলাদেশি। পথে প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে মারা যান বাংলাদেশি সাতজন। তাঁদের একজন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের মাহমুদপুর গ্রামের সাজ্জাদ আহমদ (২৫)।

এ বছরেরই ২ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে হাড়কাঁপানো শীতে ১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুনামগঞ্জের জনি সরদার (৩৪), জুনেদ আহমদ (২২) ও আকাশ রায় (২৫)।

নিহত ওই চারজনই স্থানীয় দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপ যেতে দেশ ছেড়েছিলেন। তাঁদের মতো বহু তরুণ উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের মাটিতে পা রাখতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। সেই সঙ্গে দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো আর্থিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছে।

গণমাধ্যমের খবর ও স্থানীয় একাধিক সূত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলা—সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের ৩৬ জন ইউরোপ যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এমন মানব পাচারে সিলেট বিভাগে শতাধিক দালাল জড়িত। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছেন অর্ধশতাধিক দালাল। তাঁরা অবৈধ ট্রাভেল ব্যবসায়ী ও বিদেশে থাকা পাচারকারীদের হয়ে কাজ করেন। এই দালালদের ফাঁদে পড়ছেন তরুণেরা।

৭ থেকে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের সাকিতপুর গ্রামের জনি সর্দার ও নতুন কর্ণগাঁও গ্রামের জুনেদ আহমদ এবং শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আকাশ রায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রিস পাঠাতে দিরাইয়ের টুকদিরাই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হকের সঙ্গে তাঁরা জনপ্রতি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই, এরপর ইরান ও তুরস্ক হয়ে গ্রিস পাঠানোর কথা ছিল। আকাশের ভগ্নিপতি নীলেন্দু রায় বলেন, এই সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য তাঁদের ঋণ করতে হয়েছে। বিক্রি করতে হয়েছে জমিজমা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৫ মিনিট পর কল করবেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সাজ্জাদ আহমদের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সাজ্জাদকে ইতালি পাঠাতে দুই দালালের সঙ্গে সাড়ে সাত লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল। সব টাকা তাঁরা দালালদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

দালালদের অপতৎপরতা প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি দেশে ফিরে আইনগত ব্যবস্থা নেন, তাহলে অবশ্যই প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগী হবে।

মানব পাচারে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সিলেট শাখা সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলায় নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সি ২৫০টি। এর বাইরে চার থেকে পাঁচ শ অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি আছে। মূলত এসব অনিবন্ধিত এজেন্সিই মানব পাচারে জড়িত। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল আটাবের পক্ষ থেকে ৭৪টি অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির তালিকা জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল।

অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানো উচিত বলে মনে করেন আটাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বলেন, আটাবের কাছ থেকে সম্প্রতি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একটা তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তিন বছরে ৭৩ মামলা গত তিন বছরে সিলেট বিভাগে মানব পাচারসংক্রান্ত ৭৩টি মামলা হয়েছে। পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় সূত্র জানায়, এই ৭৩টি মামলার মধ্যে ৩২টি হয়েছে সিলেট মহানগরে। এসব মামলায় ২৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২৭ জন।

তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্যও দেন না। ফলে দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এ সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ নিয়মিত মামলা করার পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করে। সুত্র: প্রথম আলো

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD