সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
আসছে বর্ষা, সিলেটে ঝুঁকি নিয়ে টিলায় বসবাস শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সিলেট জেলা আ.লীগের কর্মসূচী ঘোষণা জগন্নাথপুরে ৩ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা জাপানি দুই শিশু: বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন সিলেটে একদিনে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ জন নিহত আইসিইউতে ভর্তি বিএনপি নেতা মঈন খান পুকুরে টাকা ডুবলেই ‘স্বপ্ন পূরণ পানির নিচে খাদেমের কারসাজি’ সিলেট নগরীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু সিলেটে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু উর্মির অভিভাবকের সন্ধান চায় পুলিশ বিশ্বকাপ ট্রফি ৫১ দেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু ‘এখানে কিছু টাকা আছে, এটা দিয়ে আমার দাফন-কাফন করিও’ সিলেটে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে মানুষ সিলেটে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক বড়লেখায় বর্হিবিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফাউন্ডেশন নেতৃবৃন্দদের সংবর্ধনা প্রদান হবিগঞ্জে ভারতীয় চাপাতাসহ চোরাকারবারি আটক




এপ্রিল মাসে ৪২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৪৩ জন

FB IMG 1651912916591 - BD Sylhet News




বিডি সিলেট ডেস্ক:: গত এপ্রিল মাসে দেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনায় মোট ৫৪৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৭ জন নারী ও ৮১টি শিশু রয়েছে।

আজ শনিবার (০৭ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৬ জন নিহত হয়েছেন; যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। এপ্রিল মাসে দুর্ঘটনায় ১১৬ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮৭ জন, অর্থাৎ ১৬ শতাংশ।

এ সময়ে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় আট জন নিহত হয়েছেন এবং ছয় জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৬ জন (৩৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ), বাস যাত্রী ১৩ জন (২ দশমকি ৩৯ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৬৩ জন (১১ দশমিক ৬০ শতাংশ), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পুলিশ জিপ যাত্রী ১৪ জন (২ দশমিক ৫৭ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১০০ জন (১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-টমটম)১৯ জন (৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ১২ জন (২ দশমিক ২০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮৭টি (৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১২৩টি (২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৫টি (১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৪৬টি (১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি (১ দশমিক ৪০ শতাংশ) সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনাসমূহের ৮৪টি (১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৭টি (৩৯ দশমিক ১১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১১৩টি (২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৫২টি (১২ দশমিক ১৭ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১১টি (২ দশমিক ৫৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রামট্রাক-তেলবাহী ট্যাঙ্কার-গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্যাঙ্কার ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পুলিশ জীপ ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-শিশুক) ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন- (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম-লাটাহাম্বা-ডাম্পার) ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৫৭ টি। (ট্রাক ১৪৪, বাস ৭৯, কাভার্ডভ্যান ২৬, পিকআপ ৫৮, ট্রলি ৯, লরি ১০, ট্রাক্টর ১৭, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ৩, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্যাঙ্কার ১, ডিএনসিসি’র ময়লাবাহী ট্রাক ১, ড্রামট্রাক ৭, মাইক্রোবাস ১৭, প্রাইভেটকার ১৪, অ্যাম্বুলেন্স ৩, পুলিশ জীপ ১, মোটরসাইকেল ১৯৭, থ্রি-হুইলার ১১৬ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-শিশুক) স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩ (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম-লাটাহাম্বা-ডাম্পার) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১১ টি।

দুর্ঘটনার সময়

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ, সকালে ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, বিকালে ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাতে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশ, প্রাণহানি ২৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ, প্রাণহানি ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ১৩১ টি দুর্ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৩৯ টি দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত। সবচেয়ে কম ঝালকাঠি জেলায়। ৩ টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২২ টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ৪ জন, সেনা সদস্য ১ জন, র‌্যাব সদস্য ১ জন, বিজিবি সদস্য ১ জন, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ২ জন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ১ জন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৩ জন, আইনজীবী ৪ জন, প্রকৌশলী ২ জন, সংগীত শিল্পী ১ জন, বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী ৯ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৯ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ৩১ জন, পোশাক শ্রমিক ৭ জন, চালকল শ্রমিক ২ জন, ইটভাটা শ্রমিক ৪ জন, ধানকাটা শ্রমিক ৬ জন, মাটিকাটা শ্রমিক ৪ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১২ জন এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন...











বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২২
Design & Developed BY Cloud Service BD