বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
বেঁচে থাকলে আবার সব গুছিয়ে নেব: প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি শরিফউল্লাহ গ্রেপ্তার মুসলিমের প্রতি জো বাইডেনের রমজানের শুভেচ্ছা শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনসারের হার্টে পেসমেকার পুনঃস্থাপন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে – অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ সাংবাদিকদের ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগবে না: আইজিপি সিলেট জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী কঠোর লকডাউনে খোলা থাকবে ব্যাংক চাঁদ দেখা গেছে, বুধবার রোজা চাঁদ দেখা গেছে, বুধবার থেকে রোজা মুহিত চৌধুরীর শারিরীক অবস্থার অবনতি: ফের আইসিইউতে স্থানান্তর বড়লেখায় নিসচা’র যুব বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ বদরুল ইসলামের স্বেচ্ছায় রক্তদান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী আজ ২০৩০ সালে রমজান মাস হবে দুইটি
cloudservicebd.com

আসুন সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেই

শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ ::ঈদজ্জোহা’র চাঁদ হাসে ঐ/
এল আবার দুসরা ঈদ কোরবানি দে, কোরবানি দে/
শোন খোদার ফরমান তাকীদ।

জাতীয় কবি সত্যিই বলেছেন৷ বছর ঘুরে আবারো ফিরে এলো বিশ্ব মুসলমানের সার্বজনীন আনন্দ উৎসব ঈদ-উল-আযহা অর্থাৎ-কোরবানির ঈদ। আগামী ১ লা আগস্ট বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে (মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া) একই সাথে উৎযাপিত হবে এ ঈদ উৎসব।

তবে এবারে ঈদজ্জোহা’র আগমন ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন সারা বিশ্বে দেশের পর দেশ চলছে মৃত্যুর মিছিল৷ যেদিকে তাকাই দেখি শুধু অগনিত বনি আদমের অসহায় চেহারা। দেখতে পাই খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র জনপদের হাহাকার, কর্ণকুহরে বেজে ওঠে অনাহারী শিশুদের ক্রন্দনের রুল৷ চোখ বুঁজে সহ্য করছে অনেকেই পেটের জ্বালাতন,লোক লজ্জায় বলতে পারছে না মনের কথন। এহেন পরিস্থিতিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ভাগ করে নিতে হবে ঈদের আনন্দ,দিতে হবে পশুর সাথে মনের পশুত্ব ও পাশবিকতাকে কোরবানি৷

ঈদ এলেই মনে পড়ে যায় শৈশবের কথা, পাঠশালায় পড়েছিলাম- ‘আজ ঈদ, মদীনার ঘরে ঘরে আনন্দ’।সত্যিই সেই দিন মদীনায় ধনী-গরীব নির্বিশেষে প্রত্যেকের ঘরে আনন্দ উৎসব বিরাজ করছিলো৷ সেই আনন্দের দিনে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কী করলেন,পথের ধুলোবালিতে বসে থাকা একটি বালক, যে কাঁদতে ছিল,যার পরনে ছিল ছেড়া শতছিন্ন ধুলো মলিন একটি জামা। দেখতে পেয়ে নবীজি ছেলেটিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে নতুন জামা কিনে দিলেন। তখন,ছেলেটির মুখে হাসি ফুটলো।কিজে আনন্দ,খুশিতে সে মেতে উঠলো,দূর হলো তার দুঃখ।সবার সাথে ভাগ করে নিল ঈদের আনন্দ ৷ আজ আমরা প্রিয় নবীজির সেই শিক্ষাটি কি মনে রেখেছি? অবস্থা দৃস্টে মনে হয় আমরা নবীজির দেয়া সব শিক্ষা ভুলে যেতে বসেছি।

গরিব-দুঃখীর খোঁজ খবর নেওয়া ও অভাবীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো সেগুলোও ইদানিং ভুলতে বসেছি।এখনো এমন বৈষম্য চোখে পড়ে যে,এক বাড়ীতে ঈদের দিনে হরেকরকম পিঠা,পোলাও কোর্মা ,কয়েক পদের সেমাই রান্না হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার ধুম লেগেছে।পরিবারের সদস্যদের জন্য শপিংমল থেকে দামি দামি কাপড় ক্রয় করেছে। কিন্তু পাশের টিনের ঘরটিতে বড় পরিবারের জন্য আধা কেজি সেমাই রান্না হয়েছে,তাও দুধ ছাড়া।পরিবারের ছোট ছেলে-মেয়েরা বাটিতে করে একটু একটু সেমাই খাচ্ছে।বড়রা সেদিকে চেয়ে দেখছে। কিন্তু খেতে পারছেনা। শুকনো সেমাই ওদের গলা দিয়ে নামতে চাইছেনা। পাশের বাড়ির সাইফ, সামাহাতরা সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পরিধান করেছে তা দেখে ছোট বাচ্চারা বাবা-মা’কে বলছে ‘আমাদের নতুন জামা কোথায়?’ বাবা! আমাদের জন্য কী ঈদের কাপড় কিনে আনো নি?ইত্যাদি! ইত্যাদি ৷

এ দৃশ্য দেখে পিতা মাতার বুক ফাঁটে। মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার বাচ্চাদের কি বলে সান্তনা দিবে সে ভাষাও যোগায় না৷ নিজের ছেলে- মেয়েদের মুখে একবেলা একটু দুধ সেমাই তুলে দিতে পারছে না।পোলাও গোস্ততো দুরের কথা। বাচ্চাদের ঈদের কাপড় কিনে দিবো সে টাকাটাও পাব কোথায়?মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া বাবা-মা’র আর কী করার থাকে? অথচ পাশের বাড়ীতে অঢেল খাবার নস্ট হচ্ছে। আলমারিতে কাপড়ের স্তুপ উই পোকা ধরে ছারখার করে দিচ্ছে। এমন প্রতিবেশীর প্রতি আল্লাহর নবী সা. বলেন, ‘তোমরা ঈদের দিনে নিজেরা ভাল খাবার খাও, প্রতিবেশীকেও খাওয়াও। এতিমদের হক পুরণ কর। ’

তেমনি কোরবানীতেও ঘটে অনেক অঘটন ৷ আশেপাশের দরিদ্র কিছু মানুষ আসে আপনার কাছে গোস্তের ভাগ নিতে,তাদের সাথে করেন খারাপ আচরণ কিংবা তাদেরকে তৃপ্তি করতে পারলে না! আপনার দেয়া গোস্তের সামান্য ভাগ নিয়ে তাদের মুখ কালো হয়ে গেছে,তারা হয়তো এক টুকরো বেশি আশা করেছিল। তাদেরকেও পারলে না খুশি করতে। এ কেমন প্রতিবেশী?

কুরবানী যদি দিতেই হয়, তাহলে আপনার কাছে আসা দরিদ্র মানুষদের সাথে খারাপ আচরণ না করে সুন্দর ব্যবহার করুন এবং প্রতিযোগিতা করুন যে,তাদেরকে কত বেশি খুশি করা যায়। অধিক পরিমাণে গোস্ত ফ্রীজাপ না করে হতদরিদ্রের মধ্যে বন্টন করে দিন৷ পশু জবাই ও কাটার লোকদের যথেষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক দিন, প্রতিদিন যা দেন আজ ঈদ হিসেবে তার থেকে বেশি দিন।এতে করে আপনি অনেক সওয়াবের ভাগিদার হয়ে যাবেন৷

সর্বোপরি আপনার অসামর্থ্য আত্নীয় স্বজনের খোঁজ নিন। যারা নিত্য দিনের ব্যবহার সামগ্রী,খাবার ও জামা-কাপড় কোনটাই যোগাড় করতে পারে না। এসব ব্যাপারে ঈদ আনন্দকে তাদের সাথে ভাগ করে নিন। ঈদ উৎসবকে আরো রঙিন করে তুলতে গরিব ও অসহায়দের দিকে সাম্যের হাত বাড়িয়ে দিন।তবে,এটা তাদের প্রতি কারো করুণা নয়। বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এগিয়ে আসা। খোঁজ নিন আমার,আপনার,সবার পাড়া প্রতিবেশির। নিজেদের ঈদের কেনাকাটার কিছু অংশ তাদেরকেও দিন। তাদের মুখেও হাসি ফুটিয়ে তুলুন৷

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না;আল্লাহর তার প্রতি দয়া করে না।’ অর্থাৎ যারা গরিব-দুঃখীর প্রতি সদয় হয় না;আল্লাহ তা’আলাও সে মানুষের প্রতি সদয় হবে না।

পরিশেষে…কবির ভাষায় বলতে হয়-
“ঈদের আনন্দ যে ভাগ করে নেয়;
সেই জন আসলেই ধন্য।”

তাই আসুন আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের দিকে সুদৃষ্টি দেই, এতে তাদের জীবনমান ও ঈদ আনন্দে আসবে পরিবর্তন। দারিদ্র্যের মলিন মুখে ফুটে উঠবে অমলিন হাসি। ভুলে যাবে মনের বেদনা। তারও সবার সাথে ভোগ করবে ঈদের আনন্দ।

আল্লাহ তাআলা ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ভাগ করে নিতে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক:শিক্ষক,ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম হুসাইনিয়া মাদ্রাসা,গোলাপগঞ্জ, সিলেট।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD