বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
করোনা মোকাবেলায় যুব সমাজের অবদান অপরীসিম-আসাদ উদ্দিন আহমদ কাউন্সিলরের অভিযানে মাছিমপুর চালিবন্দর জোয়ার আস্তানা সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দেশে এখন প্রগতির ক্রান্তিকাল চলছে-বকশী ইকবাল আহমদ সিলেট নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডে পুলিশিং কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জ উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান কয়েস চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন মাদক নির্মূলে পরিবার ও সমাজ সচেতন হতে হবে-ওসি মীর নাসের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৫ লাখ টাকা পেলেন ফুটবলার উন্নতি খাতুন ইকলাল আহমদের পিতার মৃত্যুতে আশফাক আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক যুবলীগ নেতা ইকলাল আহমদের পিতার জানাযা সম্পন্ন করোনা জয় করে কর্মস্থলে ফিরলেন এসএমপি’র পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ছাতকে একদিনে পৃথক তিনটি দূর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশু ও দিনমজুরের ছাতক থানার নতূন ওসি সনজুর মোরশেদ কুড়ার বাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন চলে গেলেন বড়লেখা উপজেলা আ’লীগ নেতা নিমার আলী জকিগঞ্জের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব হোসেন কয়েস চৌধুরীর ইন্তেকাল
cloudservicebd.com

আসুন সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেই

received 1176898792667446 - BD Sylhet News

শেখ খালিদ সাইফুল্লাহ ::ঈদজ্জোহা’র চাঁদ হাসে ঐ/
এল আবার দুসরা ঈদ কোরবানি দে, কোরবানি দে/
শোন খোদার ফরমান তাকীদ।

জাতীয় কবি সত্যিই বলেছেন৷ বছর ঘুরে আবারো ফিরে এলো বিশ্ব মুসলমানের সার্বজনীন আনন্দ উৎসব ঈদ-উল-আযহা অর্থাৎ-কোরবানির ঈদ। আগামী ১ লা আগস্ট বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে (মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া) একই সাথে উৎযাপিত হবে এ ঈদ উৎসব।

তবে এবারে ঈদজ্জোহা’র আগমন ঘটেছে এমন এক সময়ে যখন সারা বিশ্বে দেশের পর দেশ চলছে মৃত্যুর মিছিল৷ যেদিকে তাকাই দেখি শুধু অগনিত বনি আদমের অসহায় চেহারা। দেখতে পাই খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র জনপদের হাহাকার, কর্ণকুহরে বেজে ওঠে অনাহারী শিশুদের ক্রন্দনের রুল৷ চোখ বুঁজে সহ্য করছে অনেকেই পেটের জ্বালাতন,লোক লজ্জায় বলতে পারছে না মনের কথন। এহেন পরিস্থিতিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ভাগ করে নিতে হবে ঈদের আনন্দ,দিতে হবে পশুর সাথে মনের পশুত্ব ও পাশবিকতাকে কোরবানি৷

ঈদ এলেই মনে পড়ে যায় শৈশবের কথা, পাঠশালায় পড়েছিলাম- ‘আজ ঈদ, মদীনার ঘরে ঘরে আনন্দ’।সত্যিই সেই দিন মদীনায় ধনী-গরীব নির্বিশেষে প্রত্যেকের ঘরে আনন্দ উৎসব বিরাজ করছিলো৷ সেই আনন্দের দিনে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কী করলেন,পথের ধুলোবালিতে বসে থাকা একটি বালক, যে কাঁদতে ছিল,যার পরনে ছিল ছেড়া শতছিন্ন ধুলো মলিন একটি জামা। দেখতে পেয়ে নবীজি ছেলেটিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে নতুন জামা কিনে দিলেন। তখন,ছেলেটির মুখে হাসি ফুটলো।কিজে আনন্দ,খুশিতে সে মেতে উঠলো,দূর হলো তার দুঃখ।সবার সাথে ভাগ করে নিল ঈদের আনন্দ ৷ আজ আমরা প্রিয় নবীজির সেই শিক্ষাটি কি মনে রেখেছি? অবস্থা দৃস্টে মনে হয় আমরা নবীজির দেয়া সব শিক্ষা ভুলে যেতে বসেছি।

গরিব-দুঃখীর খোঁজ খবর নেওয়া ও অভাবীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো সেগুলোও ইদানিং ভুলতে বসেছি।এখনো এমন বৈষম্য চোখে পড়ে যে,এক বাড়ীতে ঈদের দিনে হরেকরকম পিঠা,পোলাও কোর্মা ,কয়েক পদের সেমাই রান্না হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার ধুম লেগেছে।পরিবারের সদস্যদের জন্য শপিংমল থেকে দামি দামি কাপড় ক্রয় করেছে। কিন্তু পাশের টিনের ঘরটিতে বড় পরিবারের জন্য আধা কেজি সেমাই রান্না হয়েছে,তাও দুধ ছাড়া।পরিবারের ছোট ছেলে-মেয়েরা বাটিতে করে একটু একটু সেমাই খাচ্ছে।বড়রা সেদিকে চেয়ে দেখছে। কিন্তু খেতে পারছেনা। শুকনো সেমাই ওদের গলা দিয়ে নামতে চাইছেনা। পাশের বাড়ির সাইফ, সামাহাতরা সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় পরিধান করেছে তা দেখে ছোট বাচ্চারা বাবা-মা’কে বলছে ‘আমাদের নতুন জামা কোথায়?’ বাবা! আমাদের জন্য কী ঈদের কাপড় কিনে আনো নি?ইত্যাদি! ইত্যাদি ৷

এ দৃশ্য দেখে পিতা মাতার বুক ফাঁটে। মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার বাচ্চাদের কি বলে সান্তনা দিবে সে ভাষাও যোগায় না৷ নিজের ছেলে- মেয়েদের মুখে একবেলা একটু দুধ সেমাই তুলে দিতে পারছে না।পোলাও গোস্ততো দুরের কথা। বাচ্চাদের ঈদের কাপড় কিনে দিবো সে টাকাটাও পাব কোথায়?মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া বাবা-মা’র আর কী করার থাকে? অথচ পাশের বাড়ীতে অঢেল খাবার নস্ট হচ্ছে। আলমারিতে কাপড়ের স্তুপ উই পোকা ধরে ছারখার করে দিচ্ছে। এমন প্রতিবেশীর প্রতি আল্লাহর নবী সা. বলেন, ‘তোমরা ঈদের দিনে নিজেরা ভাল খাবার খাও, প্রতিবেশীকেও খাওয়াও। এতিমদের হক পুরণ কর। ’

তেমনি কোরবানীতেও ঘটে অনেক অঘটন ৷ আশেপাশের দরিদ্র কিছু মানুষ আসে আপনার কাছে গোস্তের ভাগ নিতে,তাদের সাথে করেন খারাপ আচরণ কিংবা তাদেরকে তৃপ্তি করতে পারলে না! আপনার দেয়া গোস্তের সামান্য ভাগ নিয়ে তাদের মুখ কালো হয়ে গেছে,তারা হয়তো এক টুকরো বেশি আশা করেছিল। তাদেরকেও পারলে না খুশি করতে। এ কেমন প্রতিবেশী?

কুরবানী যদি দিতেই হয়, তাহলে আপনার কাছে আসা দরিদ্র মানুষদের সাথে খারাপ আচরণ না করে সুন্দর ব্যবহার করুন এবং প্রতিযোগিতা করুন যে,তাদেরকে কত বেশি খুশি করা যায়। অধিক পরিমাণে গোস্ত ফ্রীজাপ না করে হতদরিদ্রের মধ্যে বন্টন করে দিন৷ পশু জবাই ও কাটার লোকদের যথেষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক দিন, প্রতিদিন যা দেন আজ ঈদ হিসেবে তার থেকে বেশি দিন।এতে করে আপনি অনেক সওয়াবের ভাগিদার হয়ে যাবেন৷

সর্বোপরি আপনার অসামর্থ্য আত্নীয় স্বজনের খোঁজ নিন। যারা নিত্য দিনের ব্যবহার সামগ্রী,খাবার ও জামা-কাপড় কোনটাই যোগাড় করতে পারে না। এসব ব্যাপারে ঈদ আনন্দকে তাদের সাথে ভাগ করে নিন। ঈদ উৎসবকে আরো রঙিন করে তুলতে গরিব ও অসহায়দের দিকে সাম্যের হাত বাড়িয়ে দিন।তবে,এটা তাদের প্রতি কারো করুণা নয়। বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এগিয়ে আসা। খোঁজ নিন আমার,আপনার,সবার পাড়া প্রতিবেশির। নিজেদের ঈদের কেনাকাটার কিছু অংশ তাদেরকেও দিন। তাদের মুখেও হাসি ফুটিয়ে তুলুন৷

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না;আল্লাহর তার প্রতি দয়া করে না।’ অর্থাৎ যারা গরিব-দুঃখীর প্রতি সদয় হয় না;আল্লাহ তা’আলাও সে মানুষের প্রতি সদয় হবে না।

পরিশেষে…কবির ভাষায় বলতে হয়-
“ঈদের আনন্দ যে ভাগ করে নেয়;
সেই জন আসলেই ধন্য।”

তাই আসুন আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের দিকে সুদৃষ্টি দেই, এতে তাদের জীবনমান ও ঈদ আনন্দে আসবে পরিবর্তন। দারিদ্র্যের মলিন মুখে ফুটে উঠবে অমলিন হাসি। ভুলে যাবে মনের বেদনা। তারও সবার সাথে ভোগ করবে ঈদের আনন্দ।

আল্লাহ তাআলা ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ভাগ করে নিতে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক:শিক্ষক,ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলুম হুসাইনিয়া মাদ্রাসা,গোলাপগঞ্জ, সিলেট।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৭ - ২০২০
Design & Developed BY Cloud Service BD