সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
মুজিব বর্ষে বড়লেখার দৌলতপুর মাদ্রাসায় মাস্ক কোরআন ও ফলজ গাছ বিতরণ নিসচা জুড়ী উপজেলা শাখার কমিটির অনুমোদন,বড়লেখা উপজেলা শাখার শুভেচ্ছা ফেনীতে নিজ হাতে সন্তানের মাথা ফাটিয়ে কোলে নিয়ে ভিক্ষা! ছাতকে উত্যেক্তকারিদের হামলায় নারী আহত: থানায় অভিযোগ সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন হাজী সেলিমের স্ত্রীর ইন্তেকাল দেশে আরো ৫১টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল অনুমোদন পেল ওআইসির নতুন মহসচিব নির্বাচিত হয়েছেন হিসেইন ব্রাহিম তাহা নিসচা’র ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে বড়লেখা নিসচা’র প্রস্তুতি সভা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী পরিবহন শ্রমিক হোসেনের সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে নিসচা বড়লেখা’র নেতৃবৃন্দ নবীগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেইট ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ সমাজের কল্যাণে যারা অবদান রাখেন তাদেরকে স্মরণ করতে হবে: মেয়র আরিফ
cloudservicebd.com

বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান ডঃ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ট উদ্যানবিদ

20200704 081545 - BD Sylhet News

মোঃ নাজিম উদ্দিন :- ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর একটি বিখ্যাত উক্তি-“যে দেশে গুনীর কদর নেই সে দেশে গুনী জন্মায় না”।আসলে কথাটি সোনার চেয়েও খাটি।আমরা আমাদের দেশ ও সমাজের সত্যিকারের গুনীজনদের কতটুকু সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছি বা দিতে পেরেছি তা জানি না কিন্তু দেশ ও সমাজের গুনীজনদের যতটা তুলে ধরবো বা সামনে নিয়ে আসবো তা দেখে বর্তমান প্রজন্ম আরও অনুপ্রানিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।বিয়ানী বাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়দেশ গ্রামের তেমনি এক গুনী ব্যক্তিত্ব ডঃ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।যিনি তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন তা এককথায় অতুলনীয়।উনার বর্নাঢ্য কর্মময় জীবনের সাফল্যে স্পষ্ট তিনি দেশ ও সমাজের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছেন।ডঃ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের জন্ম ১৯৪২ সালে বড়দেশ গ্রামে।তিনি ১৯৫৮ সালে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক এবং ১৯৬০ সালে ঢাকা নটরডেম থেকে আই এস সি পাশ করেন।তারপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৬৪ সালে মাষ্টারস অব এ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রি অর্জন করেন।১৯৬৫ সালে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসাবে চাকুরী জীবন শুরু করেন।১৯৭০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্যান তত্তের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।১৯৭৬ সালে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন।১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানির আলেকজান্ডার ফনহুম বনডট ফাউন্ডেশনের পোষ্ট ডকটরাল ফেলোসিপ নিয়ে বার্লিন কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা করেন।১৯৭৮ সালে তিনি দেশে এসে শিক্ষকতা ছেড়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউটে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৮৩ সালে তিনি কৃষি গবেষনা ইনষ্টটিউটের কনদাল ফসল গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।এরপর তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব অত্যান্ত সততা ও দক্ষতার সাথে পালন করে চাকুরী জীবন থেকে অবসর নেন।তিনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ট উদ্যানবিদ।তিনি আজীবন কৃষি গবেষনার সাথে জড়িত।কৃষি বিষয়ে তিনি ১২ টি বই লিখেছেন যার অধিকাংশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যসলয়ে পাঠ্য বই হিসাবে ব্যবহ্নত হয়।এছাড়া দেশী বিদেশী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নালে তার ১০২ টি পেপার প্রকাশিত হয়েছে।তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।তিনি ১৯৯৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল রাইস কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি ফসলের ২২ টি উন্নত জাত এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।উন্নতমানের কৃষি বিষয়ে পুস্তক রচনার জন্য ২০০৫ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্নপদক প্রদান করা হয়।এমন একজন কীর্তিমান পুরুষের জন্ম আমাদের এই বিয়ানী বাজারে যাকে নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি।

( বিঃ দ্রঃ লেখাটিতে তথ্য সংগ্রহে সর্বোতভাবে সহায়তা করেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী বন্ধু লুৎফুর ও শ্রদ্ধেয় হাফিজ আহমেদ )

লেখক-মোঃ নাজিম উদ্দিন

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৭ - ২০২০
Design & Developed BY Cloud Service BD