বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
সিলেটে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু সোমবার আলালকে গ্রেফতারের দাবীতে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট কোরআনের ৪ উপদেশেই মিলবে জীবনের সফলতা! অন্যায় করলে শেখ হাসিনা কঠিনভাবে অ্যাকশন নেন : পরিকল্পনামন্ত্রী সিলেটে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত আরব আমিরাতে চালু হচ্ছে রেলপথ মুরাদ বিদেশে যাবেন, না দেশে থাকবেন, সেটা তার ব্যাপার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জে চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫০ প্রতিটি ঘরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন : রাষ্ট্রপতি ছয় মাস ঢাকার রানওয়ে রাতে বন্ধ, জরুরি অবতরণ সিলেটে আবরার হত্যায় জড়িত মুন্নার পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত! কিডনি রোগীরা কী খাবেন না? জনতার হাতে আটক হত্যা মামলার আসামিকে প্রাণে বাঁচাল পুলিশ! হবিগঞ্জে চাচির হাতে আড়াই মাসের ভাতিজা খুন!
cloudservicebd.com

সিলেটে পরকীয়া প্রেমিক হত্যা: নারীসহ দু’জনের মৃত্যুদণ্ড

f67 - BD Sylhet News

বিডিসিলেট ডটকম :: বিয়ের পর পরকীয়ার প্রমাণ না রাখতে প্রেমিক ইমরান আহমদকে অপহরণ করে হত্যা করে মরদেহ শ্বশুড়বাড়ির পুকুরে গুম করেছিলেন গৃহবধূ সুহাদা বেগম।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় সুহাদা বেগম (২১) ও ভাড়াটে খুনি জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণাকালে পলাতক থাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদ্বদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।
বুধবার (২৪ নভেম্বর) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আহমদ (২৩) ও দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়া গ্রামের বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (২১)।

আর হত্যা সম্পৃক্ততার অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস প্রাপ্তরা হলেন, দুর্গাপুরের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে মাছুম আহমদ (৩০) ও মুলাগুল নয়াখেল গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২৪)।

মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, কানাইঘাটের সোনাপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে ইমরান হোসেন স্থানীয় রমিজা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে টেইলার্সের ব্যবসা ছিল। তার দোকানের পাশে সুহাদা বেগম মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নব বিবাহিত সুহাদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় ইমরানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন সুহাদা। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সুহাদা ইমরানকে খবর দিয়ে নেয়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল ইমরান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবু বকর প্রথমে থানায় জিডি ও পরে অপহরণ মামলা করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) জুনেদ আহমদ বলেন, নিহতের বাবা সুহাদাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭৮ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়েরের কয়েকদিন পরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে জবানবন্দি মোতাবেক সুহাদার দেখানো মতে, তার শ্বশুড় বাড়ির পুকুরের তলদেশে গাছের সঙ্গে বস্তায় ভরে ইট দিয়ে বেধে রাখা অবস্থায় ইমরানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সিলেটে প্রেমিক ইমরান হোসেনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের সেপ্টম্বর মাসে প্রেমিকা সুহাদা বেগম। রবিবার বিকলে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূক জবানবন্দি দেন তিনি।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ইমরানকে গলা ও পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার পর হাত ও পা ভেঙে লাশ গুম করতে বস্তায় ভরে পুকুরের পানিতে গাছের শেকড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

সুহাদা বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিলেটের কানাইঘাটের সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মো. আবু বক্করের ছেলে কানাইঘাট পৌর শহরের চয়েস টেইলার্সের মালিক দর্জি ইমরান হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়াগ্রামের সৌদি প্রবাসী বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

বিয়ের আগে পরিবারের সঙ্গে উপজেলা সদরের পুরাতন থানা সংলগ্ন সুরমা নদীর পারে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। আর বাসার পাশেই ছিল নিহত ইমরান হোসেনের দর্জির দোকান। ওই দোকানে সুহাদা তার পরিবারের লোকজন জামাকাপড় সেলাই করাতেন। সেই সুবাদে ইমরানের সঙ্গে সুহাদার বেগমের স্কুল জীবন থেকেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তবে তাদের এ প্রেম মেনে নিতে পারেনি সুহাদার পরিবার। এ কারণে ইমরান বিয়ের প্রস্তাব দিলেও সুহাদার পরিবার কোনো সাড়া দেয়নি।

পরবর্তীতে সুহাদাকে তার পরিবারের সদস্যরা উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়াগ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী বদরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর সুহাদার স্বামী বদরুল ইসলাম সৌদি আরবে চলে গেলে সুহাদার সঙ্গে পুরনো প্রেমিক ইমরান হোসেনের আবারও সর্ম্পক গড়ে ওঠে।

আর নতুন করে তাদের এ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যান সুহাদার স্বামীর বাড়ির লোকজন। পরকীয়ার বিষয়টি সুহাদার আত্মীয়-স্বজনদের জানানো হলে তারা ইমরানকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেন।

এতে কর্ণপাত না করায় উভয় পরিবারই ইমরানের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুহাদা বেগমের ছোট ভাই ইমরান আহমেদ কৌশলে দর্জি দোকানি ইমরান হোসেনকে নিয়ে দাওয়াত খেতে সুহাদার শ্বশুর বাড়িতে যান।

এরপর ইমরান হোসেন আর বাড়ি ফেরেননি। নিখোঁজের দুই দিন পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবা আবু বক্কর কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপরও ছেলের সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার সকালে কানাইঘাট থানায় সুহাদা বেগম ও তার ভাই ইমরান আহমদ, দেবর মাসুম আহমদ ও লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের উমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মামলার পর কানাইঘাট থানা পুলিশ ইমরান হোসেন নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের জন্য অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই তারা সুহাদা বেগমের দেবর মাসুম আহমদ ও নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীর আহমদকে গ্রেফতার করেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই প্রেমিকা সুহাদা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর পরই সুহাদা বেগম পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেন। তার স্বীকারোক্তি মতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কানাইঘাট থানা পুলিশ সুহাদার শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে ইমরান হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলা তদন্তক্রমে ৪ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি আদালতে দায়রা ২২৬২০১৮ মূলে বিচারকার্যের জন্য রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিচারকার্য শুরু হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুহাদা বেগম ও জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনির্বাণ দাস।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD