বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
আবরার হত্যায় জড়িত মুন্নার পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত! কিডনি রোগীরা কী খাবেন না? জনতার হাতে আটক হত্যা মামলার আসামিকে প্রাণে বাঁচাল পুলিশ! হবিগঞ্জে চাচির হাতে আড়াই মাসের ভাতিজা খুন! এক প্রবাসী ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা, দেশে স্ত্রীর পরকীয়া সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ঝুমন দাশের জামিন বহাল এইচএসসি পরিক্ষা: পঞ্চম দিনে অনুপস্থিত ৩৭১৮ শাবি থেকে জাতিকে যোগ্য নেতৃত্ব উপহার দিতে চাই : উপাচার্য নাইজেরিয়ায় বাসে আগুন ধরিয়ে ৩০ যাত্রীকে হত্যা দোয়ারায় বিদেশি মদসহ আটক ১ সিলেটে পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী যুবতীর মৃত্যু এবার ‘ঘর’ থেকেও বহিষ্কার তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ জাতির পিতার আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে যুবলীগকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কিডনি রোগীরা কী খাবেন না? ‘যতোদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন মানুষের জন্য কাজ করতে হবে’
cloudservicebd.com

টাইগারদের ‘ঘুম ভাঙানো’ বিশ্বকাপ

302248 cdhj - BD Sylhet News

স্পোর্টস ডেস্ক :: লাল গালিচার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছে কিশোরীরা। প্রচণ্ড উল্লাসের ছন্দে বাজছে ঢোল আর নানা রকম বাজনা। ট্রফি হাতে সেই উদ্দাম সুরের তালে তালে নেচে নেচে বের হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া দল। হ্যাঁ, সোমবার রাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন রাজাকে এভাবেই অভিবাদন জানানো হয় দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে হেরেও নিউজিল্যান্ড দল গর্বিত। প্রথমবার ফাইনাল খেলে জানিয়ে রেখেছে তারাও যেকোনো জায়গাতে শক্ত চ্যালেঞ্জের নাম। এশিয়ার মাটিতে তাসমান পাড়ের দুই প্রতিবেশী যখন গর্বের গল্প শোনাচ্ছে তখন খেই হারানো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পথ খুঁজছে উত্তরণের। অথচ বিশ্বকাপের আগে তাদেরই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারিয়ে উড়ছিল টাইগাররা।

ভাবনাও ছিল উড়ন্ত। আরব আমিরাতের কন্ডিশনে হবে উপমহাদেশের ক্রিকেটেরই জয়জয়কার। কিন্তু সেই ধারণা বদলে দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন রাজা যে অস্ট্রেলিয়া! বলার অপেক্ষা রাখে না ভুলের স্বপ্নে বিভোর টাইগারদেরও ঘুম ভাঙিয়েছে মরুর বুকে রঙিন ক্রিকেটের এই বিশ্বকাপ।

বাংলাদেশ সফরে সিরিজ হারা দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ম্যাথু ওয়েড। কিন্তু দলকে বিশ্বকাপ আসরে ফাইনালে নেয়ার নায়ক হয়েছেন সেই শিক্ষা থেকেই। ফাইনালের শিরোপা হাতে নেয়ার পর তাদের যে ভুল ধারণা ছিল সেটিও বলতে দ্বিধা করেননি। তিনি বলেন, ‘এটা বিশাল কিছু (শিরোপা)। আমাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অনেকেই হয়তো আমাদের গোনায় ধরেনি এবং আশা করেনি যে আমরা আজকে এখানে থাকবো। তবে নিজেদের মধ্যে আমরা কথা বলেছি যে, অস্ট্রেলিয়াকে এই অর্জন এনে দেয়া প্রথম দল হতে পারি আমরা। সেটি করতে পারা সত্যিই স্পেশাল।’ আরব আমিরাতে বিশ্বকাপ মানেই যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের আধিপত্য এমন ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে সোমবার পর্দা নেমেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগামী আসর যে এই চার দলের জন্য আরও কঠিন সেই বার্তাও দিয়ে গেছে ফাইনালে ওঠা দুই দল অজি-কিউই দলের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে টাইগার ক্রিকেটের জন্য এই বিশ্বকাপ টাইগারদের ভুল ভাবনা ঝেড়ে ফেলে নতুন করে শুরু করার বার্তাও রেখে গেছে। নিজ দেশে স্পিন উইকেট বানিয়ে জয়ের যে ভুল আত্মবিশ্বাস সেখানে আঘাত হেনেছে এই বিশ্বকাপ। স্পোর্টিং উইকেট পেলেও গরম, প্রচণ্ড তাপের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কীভাবে লড়াই করতে হয় সেটিও যে শিখিয়েছে আসরের সেমিফাইনাল খেলা তিন দল ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

ওমানে বাছাই দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বকাপ মিশন। ধারণা ছিল আইসিসির সহযোগী তিন দেশ স্কটল্যান্ড, ওমান ও পিএনজিকে উড়িয়ে দিয়েই সুপার টুয়েলভে যাবে। কিন্তু স্কটিশদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হেরেই ধাক্কা খায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। শঙ্কায় পড়ে তাদের মূল পর্বে খেলার স্বপ্নও। যদিও
শেষ পর্যন্ত উতরে যায়। কিন্তু সুপার টুয়েলভে সেই শিক্ষা খুব একটা কাজে আসেনি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হেরেই শুরু হয় বাংলাদেশের সুপার টুয়েলভের মিশন। এরপর ইংল্যান্ড, উইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাজেভাবে হেরে শেষ হয় মাহমুদুল্লাহদের বিশ্বকাপে সেমিফইনাল খেলার স্বপ্ন। অথচ দেশ ছাড়ার আগে ১৪ বছরের ইতিহাস বদলে পুনর্জন্মের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তারা। আরব আমিরাতের কন্ডিশনটা অনেকটা বাংলাদেশের মতো এমন ধারণাই ছিল টাইগারদের। যে কারণে বাছাই পর্বে রানার্স আপ হয়ে গ্রুপ বদলে গেলে টাইগারদের অনেকেই ছেড়েছিলেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। চ্যাম্পিয়ন হলে যে খেলতে হতো উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে। ধারণা ছিল বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যতটা অসহায় ছিল এখানে তেমনটা হবে। কিন্তু সব পরিকল্পনা, চিন্তা বদলে দিয়েছে আরব আমিরাতের উইকেট! বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এ যেন ব্যাটিং স্বর্গ। কিন্তু দেশ থেকেই চলছে টাইগার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার চিত্র সেখানেও অব্যাহত থাকে। হঠাৎ করেই এমন উইকেটে কি করতে হবে সেটিই যেন তারা বুঝে উঠতে পারেনি। ফলাফল একের পর এক লজ্জার হার। তাতেই আরও একবার দাবি ওঠে দেশের উইকেট পরিবর্তনেরও।

আরব আমিরাত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে মাঠের বাইরে কোনো উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা ছিল না। কিন্তু মাঠে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ছিল কানায় কানায় ভরা উত্তাপ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের স্বদেশে সমর্থকরা মাঠে আসতে না পারলেও তাদের জন্য করতালির জোয়ার বইয়ে দিয়েছে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্তরা। নিজেদের দল ফাইনালে না উঠতে পারলেও তাদের এমন ভালোবাসাতে বলা যায় জয় হয়েছে ক্রিকেটেরই। এই বিশ্বকাপ বিশ্বের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে দিয়ে গেছে নতুন বার্তা। হয়তো সেই বার্তাতে ঘুম ভাঙবে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরও!

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD