সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০২:২১ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটারের সত্যতা যাচাইপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ খুলছে শাবির হল, শিক্ষার্থী ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার আমেজ ২০২৬ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতি প্রার্থী বাংলাদেশ : ড.মোমেন বিশ্ব শান্তির জন্য চাই বিশ্বনবির আদর্শ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের তথ্য ঝুঁকিতে! মাল্টায় ২০ হাজারের বেশি দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী সিলেটে ট্যাংকলরির চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দিলে পুরস্কার দেয়া হবে; পরিবেশমন্ত্রী শিক্ষার্থীরা নেমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে : শামছুল ইসলাম প্রয়াত আবু নছরের বাড়িতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান বড়লেখায় দুই রিয়াজের হাতে জাপা ভারতে ১শ’ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ায় মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শীর্ষে সাকিব
cloudservicebd.com

সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারি রয়েছে ঢাকায়

Screenshot 20210924 165836 Facebook - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্কঃ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে সারাদেশে প্রতিদিনই হাজার হাজার পিস ইয়াবাসহ উদ্ধার হচ্ছে নানা ধরনের নিত্য নতুন মাদক। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের তথ্যমতে, শুধু ঢাকাতেই রয়েছে সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারি।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিভাগের প্রধান ও সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান, ভাটারা, কুড়িল ও রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৬০ গ্রাম আইস ও ১২০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) দাবি, এখন পর্যন্ত ঢাকায় জব্দ হওয়া আইসের সবচেয়ে বড় চালান এটি। এ সময় দুটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকা।

ফজলুর রহমান বলেন, আইস প্রথম ধরা পড়েছিল ২০০৭ সালে। দীর্ঘদিন অস্তিত্ব না থাকলেও ২০১৯ সাল থেকে আবার নতুন করে আইসের প্রভাব বাড়ছে। গত আগস্টে একজনকে গ্রেফতার করি আমরা। তার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর অভিযান পরিচালনা করি। সেই অভিযানে আমরা ১০ জনের একটি সিন্ডিকেটকে আটক করতে সক্ষম হই। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আবারও নিজেদের প্রযুক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করি।

তিনি বলেন, মাদকটির প্রতি গ্রামের দাম প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এই মাদকসেবন ব্যয়বহুল হওয়ায় সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরাই এই মাদকের সঙ্গে জড়িত হয়। এই গ্রেফতার পাঁচজনও সচ্ছল পরিবারের। যেমন- জাকারিয়া অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা করে এসেছে। তারেক আহম্মেদ যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে। এছাড়া জসিম উদ্দিন বাড়ি ও গাড়ির মালিক। সবাই অর্থ ও বিত্তশালী।

এরা কেন জড়িয়ে পড়ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, মূলত এরা প্রলোভনে এই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আইসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অধিক টাকা আয়ের লোভে প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে তাদের নিয়ে আসে।

মাদকের সঙ্গে জড়িত মূলহোতারা কেন আটক হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গডফাদারেরা মূলত গা ঢাকা দিয়ে থাকে। অর্থ বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করলেও সাধারণত তারা আড়ালে থাকে। আর সংশ্লিষ্টদের এমনভাবে ট্রেইন করা হয়, তাদের যত কিছুই করা হয় মূল হোতাদের তথ্য দিতে চায় না। তারপরেও কেবল ঢাকারই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনের মতো মাদক কারবারির তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।

আপনারা যাদের তালিকা পেয়েছেন তাদের একসঙ্গে গ্রেফতার করছেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য থাকলেও আটক করার সময়ে তাদের কাছে যদি মাদক না পাওয়া যায় তাহলে আমরা ধরতে পারি না। আটক করার জন্য তাদের কাছে মাদক থাকতে হয়। আর এখন তারা দিনে চালান না করে রাতে করে কিংবা গভীর সমুদ্রে লেনদেন করে। আমরা আমাদের কৌশল পরিবর্তন করছি। আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।

কোন দেশ থেকে এই নতুন মাদক আইস আসছে জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বলেন, এই মাদক মূলত মিয়ানমার থেকেই বাংলাদেশে আসছে।

দেশে এই মাদক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি-না প্রশ্নে তিনি বলেন, এই মাদক দেশে তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। যে উপাদান এই আইস উৎপাদনে প্রয়োজন হয় তা আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। কিছু উপাদান ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হলেও এগুলো অনেক আগেই দেশ থেকে ব্যান করা হয়েছে।

যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তারা আইসের সঙ্গেও জড়িত কি-না জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বলেন, হ্যাঁ, ইয়াবা ব্যবসায়ীরাই এই আইসের ব্যবসা শুরু করছে। এখনো বিস্তার বড়ভাবে না হলেও তারা বাজার পাওয়ার চেষ্টা করছে। বেশি দাম হওয়ায় এখনো সেভাবে কাস্টমার পায়নি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD