শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
৯০ দিন পর মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফিরলেন চীনা নভোচারীরা! পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ২২ তারিখ থেকে রেড এলার্ট তুলবে ব্রিটেন জগদীশ চন্দ্র দাসের বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের শোক ডাঃ ফয়জুল ইসলামের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগের শোক নিসচা জুড়ী শাখার কমিটি অনুমোদন : সভাপতি সাইফ, সম্পাদক জসিম ওসমানীনগরের আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছাতকের দক্ষিণ খুরমা ইউপি সদস্য শাহ এমরান আহমদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা একজনকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চারজনের মৃত্যু সরকারী ক্রয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম-প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী কমলগঞ্জে প্রেম সংক্রান্ত জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু আহত বড়লেখা ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হলেন; দেলোয়ার জুমা’র খুতবার সময় মসজিদে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১ ছাত্রদলের কমিটিতে সভাপতির প্রেমিকা, সম্পাদকের স্ত্রী সমুদ্রে নামতে পর্যটকদের মানতে হবে ১০ নির্দেশনা ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা ও সিইও রাসেল তিন দিনের রিমান্ডে
cloudservicebd.com

কক্সবাজারে সমুদ্র ছুঁয়ে আকাশে উড়বে বিমান

FB IMG 1630179353460 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্কঃ

বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় স্থান পেতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এখানে বর্ণিল আলোয় সমুদ্র ছুঁয়ে ওঠানামা করবে বড় বড় উড়োজাহাজ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি হবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে ওঠানামা করতে পারবে নতুন প্রজন্মের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, বি-৭৪৭, এয়ারবাসসহ বড় বড় বিমান।

বিমানবন্দরটির টার্মিনাল ভবনও সাজানো হচ্ছে আকর্ষণীয় ঝিনুক আকৃতিতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা সারসরি আসতে পারবেন কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয়। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ আর পরিকল্পনায় এ বিমানবন্দর সাজানো হচ্ছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের বিমানবন্দরে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, শক্তি বৃদ্ধি, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ। এ উপলক্ষে আগামীকাল (রোববার) সকালে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কক্সবাজারের এই বিমানবন্দরকে ঘিরে তৈরি হবে আঞ্চলিক এভিয়েশনের হাব। সারা বিশ্ব থেকে সুপরিসর বিমান কক্সবাজারে ওঠানামা করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ে ৯ হাজার ফুট। এটি আরও ১ হাজার ৭০০ ফুটে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সম্প্রসারিত হতে যাওয়া রানওয়ের মধ্যে ১ হাজার ৩০০ ফুটই থাকবে সমুদ্রের ওপর।

জানা যায়, নতুন প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রথমে সাগরের নিচে স্থাপন করা হবে জিওটিউব। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে পানি। এরপর হবে খনন প্রক্রিয়া ও বালু ভরাট কার্যক্রম। প্রাথমিক পর্যায়ে হতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে হবে বালুর স্তরবিন্যাস। চুড়ান্ত পর্যায়ে হবে রানওয়ের জন্য বালুর স্তরবিন্যাস। এরপর পাথরে স্তরবিন্যাস এবং নিশ্ছিদ্রকরণ ও পিচ ঢালাই। এভাবেই তৈরি হবে রানওয়ে এবং সমুদ্র থেকে রানওয়ে রক্ষাকারী বাঁধ। এর পরপরই হবে রানওয়ের শোভাবর্ধন ও নির্দেশক বাতি স্থাপন।

এর আগে ২০১৭ সালে সম্প্রসারিত রানওয়েতে বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময়ই এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে উন্নীতকরণের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব। বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ে ৯ হাজার ফুট। যেটি বর্ধিত হয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে, যা হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রানওয়ে। আশা করছি, আগামী বছরই কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা শুরু করবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হচ্ছে এই রানওয়ে। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ান করছে বেবিচক। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেবিচক কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি চীনের চ্যাংজিয়াং ওয়টারওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউইবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসসি) সঙ্গে চুক্তি করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান আরও বলেন, প্রথমে ৯ হাজার ফুট থেকে আরও তিন হাজার ফুট সমুদ্রকূলে রানওয়ে সম্প্রসারণের কথা ছিল। কিন্তু অনেক গবেষণায় সাগর রক্ষা ও কক্সবাজারের পরিবেশের কথা চিন্তা করে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। রানওয়ে সম্প্রসারিত হলে দেশের পর্যটনসহ অর্থ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য আনন্দের।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার আসেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ সময় তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিমানবন্দরের উন্নয়ন। চলমান কাজ সম্পন্ন হলে রানওয়ের আয়তন বাড়বে, অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হবে বিমানবন্দর।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই রানওয়ে স¤প্রসারণ কাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে এবং পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD