শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
মাইক এন্ড সাউন্ড সিস্টেম মালিক কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মুনির তপন জুয়েল হত্যার বিচার দাবী পূর্ণিমার হাত-পা বাঁধা বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার সন্তান কোলে নিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন মা! ফেসবুকে প্রশংসায় ভাসছেন তিন শিক্ষক করোনা পজিটিভ, স্কুল বন্ধ ঘোষণা সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারি রয়েছে ঢাকায় গরু চুরি কেন্দ্র করে মাদাগাস্কারে সংঘর্ষে নিহত ৪৬ কোভিড একসময় সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বরে পরিণত হবে: সারাহ গিলবার্ট ভারতে আদালতকক্ষে গোলাগুলিতে নিহত ৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ৮ কর্মকর্তার পদায়ন বালাগঞ্জে কামরুল হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসংঘ মহাসচিবের দোয়ারাবাজারের মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ ছাতকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি: উপ‌জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী 
cloudservicebd.com

পবিত্র আশুরা আজ: করণীয় ও বর্জনীয়

FB IMG 1629437873636 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্কঃ হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এ মাসটি একটি বরকতময় ও হারাম মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা বিশেষত সাইয়্যিদুল আম্বিয়া হজরত রাসূলে আকরাম সা:-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন রা:-এর শাহাদতের কারণে আশুরার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় দিন।

এ দিন ঐতিহাসিকভাবে যেসব ঘটনার কথা জানা যায়-১. মহান আল্লাহ আরশে আজিমে অধিষ্ঠিত হন। ২. আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেন। ৩. আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে প্রথম বৃষ্টি ও রহমত বর্ষণ করেন। ৪. মহান আল্লাহ তায়ালা আদম আ:কে সৃষ্টি করেন। ৫. হজরত আদম আ:কে দীর্ঘ কান্নাকাটির পর ক্ষমা করে দেন। ৬. হজরত নূহ আ: তার সঙ্গী-সাথীসহ বন্যা থেকে মুক্তি পান এবং তার নৌকা জুদি পাহাড়ে অবস্থান নেয়। ৭. হজরত ইদ্রিস আ: জীবিত বেহেশতে উপনীত হন। ৮. মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ:-এর জন্ম হয়। ৯. হজরত ইবরাহিম আ: ফিরাউনের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পান। ১০. হজরত মূসা আ: আল্লাহ তায়ালার সাথে সরাসরি কথা বলেন ও তাওরাতপ্রাপ্ত হন। ১১. হজরত ইউনূস আ: ৪০ দিন পর মাছের পেট থেকে মুক্ত হন। ১২. হজরত আইয়ুব আ: দীর্ঘ ১৮ বছর রোগে ভোগার পর সুস্থ হন। ১৩. হজরত দাউদ আ: ক্ষমাপ্রাপ্ত হন এবং হজরত সোলাইমান আ: আল্লাহর অনুগ্রহে রাজত্ব ফিরে পান। ১৪. হজরত ইউসুফ আ: গভীর কূপ থেকে উদ্ধার পান। ১৫. তিনি ৪০ বছর পর তাঁর পিতার সাথে মিলিত হন। ১৬. হজরত মূসা আ: ও তাঁর অনুসারীরা নীল নদ অতিক্রম করেন এবং ফিরাউন তার দলবলসহ নীল নদে নিমজ্জিত হয়। ১৭. হজরত ঈসা আ:কে জীবিত আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। ১৮. রাসূলে আকরাম সা:-এর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন রা: তার পরিবার পরিজনসহ কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণ করেন। ১৯. এ দিন জুমাবার কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আশুরার আমল বা করণীয় : আশুরায় রোজা রাখা।
১. হজরত আবু মূসা রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ইহুদিরা আশুরার দিনকে ঈদ হিসেবে গণ্য করত। হুজুর সা: সাহাবিদেরকে বললেন, ‘তোমরা ওই দিন রোজা রাখো’ (বুখারি-১৮৬৮)।

২. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আমি হুজুর সা:কে এ দিন অর্থাৎ আশুরার দিন এবং এ মাস তথা রমজান মাস ভিন্ন আর কোনো দিনকে অধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ করতঃ রোজা রাখতে দেখিনি’ (বুখারি- ১৮৭৯, মিশকাত-১৯৪২)।
৩. হজরত সালমা ইবনে আকওয়া রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সা: আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন সে যেন লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দেয় যে, যে ব্যক্তি কিছু খেয়ে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকি সময়টুকু রোজা রাখে। আর যে কিছু খায়নি সে যেন পূর্ণ দিন রোজা রেখে দেয়। কেননা, আজ আশুরার দিন’ (বুখারি-১৮৭০)।

৪. হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাসের রোজার পর সবচেয়ে ফজিলতের রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা’ (তিরমিজি-৭৩৮)।

৫. হজরত আবু কাতাদাহ রা: থেকে বর্ণিত- নবী করিম সা: ইরশাদ ফরমাইয়াছেন, ‘আশুরার দিবসের রোজা পালন সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এর মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা করে দেবেন। এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জোবায়ের রা: প্রমুখ নবী করিম সা: থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আশুরার দিবসের রোজা পালন করতে উৎসাহিত করেছেন’ (তিরমিজি-৭৫০)।

৬. হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজার পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজাই হলো শ্রেষ্ঠ রোজা এবং ফরজ নামাজের পর রাতের নামাজই শ্রেষ্ঠ নামাজ’ (মুসলিম, মেশকাত-১৯৪১)।
৭. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেন, রাসূলুল্লøাহ সা: আশুরার দিনে রোজা রাখলেন এবং তাতে রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। সাহাবিরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা: এই দিনকে তো ইহুদি এবং নাসারারা সম্মান করে। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকি নিশ্চয়ই আমি নবম তারিখেও রোজা রাখব।’

বর্জনীয় কাজ :

১. আশুরার দিনকে উৎসব বা মেলার দিন হিসেবে পালন না করা।

২. আবার শোক দিবস হিসেবে শোকগাথাও পাঠ না করা।

৩. আহলে বাইতের কথা স্মরণ করে দুঃখ প্রকাশ করা ও কান্নাকাটি করা যাবে না।

৪. তাজিয়া ও নিশান বের করা যাবে না।

৫. এ দিনকে উপলক্ষ করে ক্রীড়া কৌতুক ইত্যাদি না করা। অতএব, আসুন আমরা পবিত্র আশুরায় রোজা পালনসহ যাবতীয় ভালো কাজগুলো করি ও নিষিদ্ধ কাজগুলো পরিহার করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন, আমীন।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD