রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
অনিবন্ধিত ৫৯ আইপিটিভি বন্ধ ১০ কোটিতে বিক্রি হল ১ টাকার কয়েন! তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রাণ, অতিথি পাখি নয় : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা আরও ৬ মাস স্থগিত এসএমপি’র টিলাগড় পয়েন্টে পুলিশ বক্সের উদ্বোধন সিলেট জেলা আ’লীগ ও জেলা পরিষদের সদস্যদের বঙ্গবন্ধুর ম্যুারালে শ্রদ্ধা নিবেদন গোয়াইনঘাটে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আজ থেকে ৪ ঘণ্টা বন্ধ সিএনজি স্টেশন বাদাঘাটে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন সুনামগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস নিযন্ত্রণ হারিয়ে আহত ৩০ সন্ধ্যায় আইপিএলে মুখোমুখি মুম্বাই-চেন্নাই ১৯৭০ সালে আজকের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সালমান শাহ বিশ্বনাথে ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার প্রতিবন্ধী রাজনের করুণ জীবিকাযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাবাহিনী প্রধান
cloudservicebd.com

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন কেবল সময়ের ব্যাপার : প্রধানমন্ত্রী

FB IMG 1629124452962 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের বের হয়ে আসাটা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এই হত্যাকান্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারীরাও সমান দোষী সেটা ভুললে চলবেনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল, ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।’ তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকান্ডের বিচার করাটা জরুরী ছিল সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে, সেদিনও খুব বেশি দেরী নয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী এবং ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা তখনকার পত্র-পত্রিকাগুলো পড়লেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে কেনা একটা বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায় সেখানে একটি বছরও সময় দেয়া হলোনা, সাথে সাথে সমালোচনা শুরু হলো। ধৈর্য্য না ধরে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখা হলো। কারা এগুলো লিখেছিল, কাদের খুশী করতে এবং এই হত্যাকান্ডের জন্য গ্রাউন্ড প্রিপেয়ার কারা করছিল? আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক-রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত ইন্টারভিউ-এর উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা জিনিস চিন্তা করেন ’৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা দেশে ফেরেন এবং সেই ’৭২ সাল থেকেই এদেশে ষড়যন্ত্র শুরু। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি হলো, জাসদ সৃষ্টি হলো, পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর দোসরা যারা এদেশে থেকে গিয়েছিল সব আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির সঙ্গে মিশে গেল। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের বিচার করাটা জরুরী ছিল সেটা করেছি এবং কারা জড়িত ছিল একদিন সেটাও বের হবে। সেদিনও খুব বেশি দেরী নয়। তবে, আমার একটাই লক্ষ্য ছিল আমি সবসময় বলেছি বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা, যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন। সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো সেদিনই আমি মনেকরি এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারবো।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে শহিদ জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের পরিবারের শাহাদতবরণকারি সদস্যদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

স্মরণ সভায় শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাবেক মন্ত্রী এবং দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়–য়া এবং ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বক্তৃতা করেন। আরো বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কোচি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন থেকে সভাটি সঞ্চালনা করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এবং ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

ঘাতকদের হাতে একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তাঁদের তিন সন্তান এবং দুই পুত্রবধু, বঙ্গবন্ধুর অনুজ ও ভগ্নিপতি  এবং সামরিক সচিব কর্নেল জামিল সহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে  বেঁচে যান।

একুশ বছর পর আওয়ামী লীগ পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে মুল বাধা ইনডেমনিটি আইন জাতীয় সংসদে বাতিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সুপ্রীম কোর্টে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি আত্বস্বীকৃত খুনী ফারুক,মহিউদ্দিন সহ ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রশিদ, ডালিম, নূর চৌধুরী সহ বাকী খুনীরা এখনও বিশে^র বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে।-বাসস

 

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD