বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
ভুয়া ভিডিও আপলোড-শেয়ার-মন্তব্যে সাবধান! বাংলাদেশে একই সাথে তিন ধর্মের উৎসব উদযাপিত চুনারুঘাটে ভারতীয় মদসহ আটক ১ সুনামগঞ্জে নৌকা থেকে পড়ে শিশুর মুত্যু ওয়াইফাই সংযোগ পাবে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় সিলেটে উন্নয়নের নামে অর্ধশত ছায়াবৃক্ষ কাটলো সিসিক লন্ডনে বাসে ছুরিকাঘাতে ৩ জন আহত সিলেট আসছেন চারদিনের সফরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, নারী-পুরুষসহ গ্রেফতার ৯ শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় ১০ ঘন্টা থাকবে না বিদ্যুৎ সুপার টুয়েলভে উঠবে কী বাংলাদেশ? সমীকরণ যা বলছে ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী (সা.)- এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় : প্রধানমন্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ ফেসবুকে ‘যতন সাহা হত্যাকাণ্ড’ নামে ছড়ানো ভিডিওটি মিথ্যা, গুজব
cloudservicebd.com

করোনাকালে লকডাউন

Screenshot 20210731 030359 AndroVid - BD Sylhet News

ফারহানা বেগম হেনাঃ পৃথিবীর এখন ভয়ানক দুঃসময়, দুঃসময় এখন দেশেরও। জীবাণুর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে, তখন আমাদের দেশ নিয়ে শঙ্কা হওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই পর্বতসম। একদিকে যেমন ব্যাপক ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র, তেমনি তার স্বাস্থ্য সুবিধা ও স্বাস্থ্য সচেতনা দুই-ই নাজুক।

তিনশো ষাট আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটে চিকিৎসক, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ বাহিনী, স্বেচ্ছসেবকবৃন্দ যে যার মতো করেই জীবন বাজি রেখে জীবাণুর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ করে যাচ্ছেন করোনা মহামারির শুরু থেকেই। সবার অবদানই শ্রদ্ধার দাবি রাখে।

যারা করোনা মহামারির সময় রাস্তায় থেকেছেন বা এখানে আছেন প্রিয়জনের ছলছল চোখের পানি উপেক্ষা করেই তারা রাস্তায় থেকেছে নিজেদের বা পরিবারের নিরাপত্তা ভাবনা উপেক্ষা করেই। রাস্তায় হাজার হাজার, লাখ কিংবা কোটি মানুষের স্রোত- যার মধ্যে যে কেউ বইতে পারে এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যকায় সম্মুখে থাকা সাধারণ কথা নয়। এত সীমাবদ্ধতা তারপরও তারা যেভাবে অবিচল থেকেছে, তাতে আমরা এই অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে ভরসা পেয়েছি।

সারা দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছে মরণঘাতক করোনা নামক ভাইরাস। বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে এই ভাইরাস। ছাড়ছে না কাউকে। শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে নেওয়া হয়েছে সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা সিলেট ও এর কোন ব্যতিক্রম ছিল না। যখন বিভিন্ন দেশে লাশের ছড়াছড়ি তখন আমারা মরণঘাতক করোনার থাবা থেকে বাঁচার জন্য লকডাউন নামক শহর গ্রাম কে করে দিলাম লকডাউন।

করোনা মহামারির শুরু থেকেই প্রচার প্রচারণার কোন কমতি ছিল না আমাদের মাঝে দিন রাত এক করে মাইকিং লিফলেট সহ আরো কতো কি যে করলাম, আপনি থাকুন ঘরে করোনা রবে দূরে, নিজে বাঁচুন, পরিবার কে বাঁচান,দেশ কে বাঁচান আরও কতো কি।

করোনা ভাইরাসের মহামারি শুরু থেকেই এই লকডাউনের কারনে কতো মানুষের মাথায় পড়েছে হাত,কর্মহীন হয়ে পড়েছে মানুষ যার ফলে কতো মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। আমরা কতজন মানুষের খবর রেখেছি বা কতজন মানুষের পাশে দাড়াতে পেরেছি, কতজন মানুষের ঘরে সঠিক ভাবে খাবার পৌছে দিতে পেরেছি, এখনও নিউজ খুললেই দেখতে পাই অনাহারী মানুষ গুলো কে তারা কতটা অসহায় অবস্থায় আছে। এখনো রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ গুলো বলে পেটে দানাপানি পরেনি। দেশের এতো গুলো মানুষ দিনের পর দিন কষ্ট করে যাচ্ছে।

দিনের পর দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ফলে বড় ছোট সকল ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন গুনতে হচ্ছে লোকসান বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার কর্মচারী নতুন কোন কর্মসংস্থান না থাকার কারণে তাঁদের অবস্থা বর্তমানে নাজেহাল।

মহামারি করোনা ভাইরাস কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু দিন পর পর এই লকডাউন দেওয়াটা ও তাদের এই কষ্ট করাটাই বিফলে গেল কারণ, ঘোষণা এলো ঈদের জন্য সকল মার্কেট ও শপিংমল গুলো খুলে দেওয়া হবে এ যেনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তই মনে হচ্ছিল আমার কাছে।

এই তো কিছু দিন আগে ঈদ উপলক্ষে বলা হলো ঈদের ছুটিতে কেউ স্থান পরিবর্তন করতে পারবে না যে যেখানে আছে সেখানেই থাকতে হবে, কেন সব কিছু যখন খুলে দিয়ে জনসমাগমের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো তা হলে ছুটিতে কেন সবাই সবার বাড়ি ফিরতে পারবে না এ আবার কি ধরনের সিদ্ধান্ত ঠিক বুঝতে পারলাম না এ যেনো ধরি মাছ না ছুই পানি। এটা কি ধরনের সর্তকতা মূলক প্রচারণা ঠিক বোধগম্য হলো না। তা হলে কি আমরা মরণঘাতক করোনা ভাইরাস এর চাইতে ও শক্তি শালী হয়ে গেলাম নাকি? আমরা আমাদের নিজেদের অজান্তেই মরণআঘাত করোনার কাছে হয়তো জয়ী হতে পারবোনা আমাদের ভুলের কারণে। এভাবে লকডাউন রাখার চাইতে সব কিছু আগের মতো স্বাভাবিক করে দিলেই তো ভালো হয়। যে যার মতো করে চলুক,কেউ বুজলে ভুজ পাতা না বুজলে তেজপাতা। অঝতা এতো কষ্ট করে কি হবে, আপনি আমি আমরা সবাই ঘর বন্দী হয়ে কি লাভ হলো। মহামারী করোনায় আমাদের কে কোথায় যে নিয়ে যায়, তা বলা মুশকিল ।

কারণ আমরা সবাই অবলোকন করেছি করোনা কালীন সময়ে যতোবার লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে আর সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে ততবারই বাইরে উপছে পড়া মানুষের ঢল তার উপর ঈদ বলে কথা। মানুষ তো কেনা কাটা করবেই। মানুষ ঘর বন্দী হলেও তার নিত্য প্রয়োজন গুলো তো আর বেশি দিন বন্দী করে রাখা যায় না। এ ছাড়া ও আমরা সবাই দেখেছি ঈদের ছুটিতে মানুষের বাড়িতে ফেরার হিড়িক ফেরি ও লঞ্চ ঘাটের চিত্র মানুষ পায়ের চাপে কতো মানুষের মৃত্যু এর পরও তো মানুষ থেমে থাকেনি মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা চিন্তা ও করেনি একবার ও। কে শুনে কার কথা। এই যখন আমাদের দেশের অবস্থা তখন আমাদের সরকার এদেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছু দিন পর পর লকডাউন নামক লকডাউন না দেওয়া টাই উত্তম।

এই তো আবার ঘোষণা এলো খুলে দেওয়া হবে গার্মেন্টস, শিল্পকারখানা গুলো, আর এই শিল্পকারখানা গুলো কে সচল করতে দলে দলে কারখানায় বিভিন্ন যায়গা থেকে শ্রমিকরা এসে কাজে যোগ দিবে।এ যেনো মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে পড়বে সবার মাঝে। প্রতিটি মানুষ আত্মক গ্রস্ত হয়ে আছে কারণ আমরা কেউই জানিনা কার শরীলে করোনা ভাইরাস বসবাস করছে কার ছোঁয়াতে কে আক্রান্ত হবে নিজের অজান্তেই। তার উপর যারা কাজে যোগ দিবে তাদের কারোরই করোনা ভাইরাস আছে কি না তার পরীক্ষার ও কোন ব্যবস্থা আছে কিনা তাও পরিস্কার নয় কারো কাছেই।

যখন মরনঘাতক করোনার ছুবল ছিল খুবই নাম মাত্র তখন এতো কিছু করা হলো ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না একজনের বেশি লোক এক সাথে চলতে পারবে না, ঘরে অবস্থান করতে হবে, মসজিদে ১০/১২জন ছাড়া নামাজ পড়া যাবে না এতো এতো কড়াকড়ি আরোপ করা হলো আমরা ও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সেই নির্দেশণা গুলো কে পালন করতে।

আর এখন যখন মরণঘাতক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতি দিন মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে , শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন। সিসিইউ,আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত রোগী রাখার যায়গা নেই করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করছে করোনা আক্রান্ত মানুষ সেই খানে ঔ মূহুর্তে সব কিছু খুলে দেওয়াটা খুবই জরুরী কি? আমি তো মনে করি যখন করোনার ছুবল কম ছিল আর কড়াকড়ি বেশি ছিল, এখন তো আরও বেশি করে কড়াকড়ি বাড়ানো উচিৎ অন্তত খুব বেশি না হলেও কিছু সংক্ষক মানুষ বেঁচে থাকতে পারতো। অন্য দেশ গুলোর মতো আমাদের দেশে অন্তত মৃত্যুর মিছিল শুরু হতো না কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে এই মৃত্যুর মিছিল আরও বেশি শুরু হতে আর বেশি বাকি নেই। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে ও লাশের ছড়াছড়ি শুরু হলো বলে, আমরা যদি বেঁচে থাকি তা হলে আমরা হবো সেই লাশ দেখার নিরব দর্শক মাত্র। এখনো আছে হাতে সময়, হয়নি তেমন দেরি, যদি থাকি সর্তক তবেই পাবো মুক্তি।

লেখক : সাংবাদিক

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD