রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
সিলেট সীমান্তে ৪৮ বিজিবি’র ১৪৯ পরিবারকে খাদ্য সহায়াতা প্রদান সাবেক মেয়র কামরানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর আ.লীগের কর্মসূচী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ এমপি’র প্রচেষ্টায় চারখাইয়ে হাইওয়ে থানা হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি সাধারন মানুষ সন্তুুষ্ঠ – শফিউল আলম নাদেল নিসচা’র কেন্দ্রীয় সহ সাংঠনিক সম্পাদক মিশুর সাথে বিয়ানীবাজার শাখার মতবিনিময় সভা সিলেট ৩ আসনের নৌকার মাঝি হাবিবকে ফুল দিয়ে বরণ করলেন এড.নাসির উদ্দিন খান বড়লেখায় নিসচার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছয়ফুল আলম পারুল এর কাব্যগ্রন্থ ‘ছন্দপতন’র মোড়ক উন্মোচন সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন কামরানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শিরনী বিতরণ হযরত শাহজালালের মাজারে এবারও ওরস হচ্ছে না আইনি সহযোগিতা মাধ্যেমে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে – জগদীশ দাস স্কুল-কলেজে ছুটি আবার বাড়ল সিলেট ৩ আসন সহ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন যারা সিলেট – ৩ আসনে নৌকা পেলেন হাবিবুর রহমান হাবিব আ.লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা আজ, অপেক্ষায় সিলেটের ২৫ নেতা
cloudservicebd.com

মায়ের জিডির পরপরই ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা

20210520 034242 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্ক::  রাজধানীর পল্লবীতে সুমন বাহিনীর বিরুদ্ধে মায়ের জিডির পরই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ছেলে সাহিনুদ্দিনকে। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে তাকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাবেক এমপি এমএ আওয়াল, সাবেক মেজর মোস্তফা কামাল, সুমন বাহিনীর সুমন, তাহের, মানিক, ন্যাটা সুমনসহ বেশ কয়েকজনকে যে কোনো সময় গ্রেফতার করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, মামলাটি পুলিশ তদন্ত করলেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ছায়াতদন্ত করছি। সাবেক এমপি আওয়াল এবং সাবেক মেজর মোস্তফা কামালসহ বেশ কয়েকজনকে আমরা নজরদারিতে রেখেছি। তারা যে কোনো সময় ধরা পড়বে। সাহিনুদ্দিন হত্যায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

ডিবির উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত করছিলাম। আজ (বুধবার) মামলাটি আমাদের হাতে এসেছে। আমরা নথি বুঝে পেয়েছি। একুট অপেক্ষা করুন। আশা করছি দ্রুতই ভালো খবর দিতে পারব।

গত ৭ ডিসেম্বর যুগান্তরে ‘পল্লবীতে ভয়ংকর সুমন বাহিনী/প্রতিবাদ করলেই কুপিয়ে জখম’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হয়েছিল। ওই সময় এক মাসের ব্যবধানে সুমন বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। কিন্তু তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠে এই বাহিনী। অন্যদিকে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হতে থাকে। সর্বশেষ ১১ মে আকলিমা নামের এক নারী পল্লবী থানায় সুমন বাহিনীর সুমনসহ ছয়জনকে আসামি করে জিডি করেন।

জিডিতে সুমন ছাড়া আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে হ্যাভিলি প্রপার্টিজের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক এমপি এমএ আওয়ালও আছেন। জিডিতে আকলিমা আশঙ্কা করেন, যে কোনো সময় তার ছেলে সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করা হতে পারে। এই আশঙ্কার পাঁচদিনের মাথায় রোববার প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর মুরাদ ও টিটু নামের দুজনকে গ্রেফতার করে দুইদিনের রিমান্ডে নেয় পল্লবী থানা পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ তাদের আদালতে হাজির করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, জমিজমা দখলকে ঘিরে পল্লবীতে একাধিক গ্রুপ গড়ে উঠেছে। সাবেক এমপি এমএ আওয়াল এবং সাবেক মেজর মোস্তাফা কামাল বড় দুটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন।

এ দুই গ্রুপের সদস্যদের পারস্পরিক যোগসাজশে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অথচ এ দুই গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষের সমস্যা সমাধানের কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে আনে মুরাদ। এ সময় সাহিনুদ্দিনের মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল মুরাদ। মাঝখানে বসা ছিল সাহিনুদ্দিনের ছেলে মাশরাফি (৭)। পেছনে বসা ছিলেন সাহিন।

মোটরসাইকেল চালিয়ে মুরাদ পল্লবী ‘ডি’ ব্লকের ২৩ নম্বর রোডের সিরামিক গলির উলটা পাশে এসে থামে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল সুমন ও মনিরসহ অন্যরা। সাত বছরের ছেলের সামনেই ফিল্মি স্টাইলে মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে সাহিনুদ্দিনকে নামান সুমন। পরে তাকে উপর্যুপরি কোপানো হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন বাহিনীর সদস্য মনির ও মানিক রামদা দিয়ে সাহিনুদ্দিনকে একের পর এক কুপিয়ে যাচ্ছে। আশপাশ থেকে ভেসে আসছে চিৎকার-কান্না। মাটিতে লুটিয়ে ছটফট করতে করতে বাঁচার আকুতি জানান সাহিনুদ্দিন। সাহিনের হাত-পা, গলা, মুখ, পেট, ঊরু, মাথা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাতাড়ি কোপানো হয়।

কিছুক্ষণ কুপিয়ে মানিক চলে গেলেও মনির কুপিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে গলায় কুপিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার পর স্থান ত্যাগ করে মনির।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, সাহিনুদ্দিন ও সুমন দুজনই হ্যাভেলি প্রপার্টিজের পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হ্যাভেলি প্রপার্টিজের পাশে সাবেক মেজর মোস্তফার একটি প্রকল্প আছে। এই পকল্প নিয়ে হ্যাভেলির সঙ্গে মোস্তফার দ্বন্দ্ব ছিল। সাহিনুদ্দিন এবং সুমন দুজনই এলাকায় প্রভাবশালী। নিজেদের স্বার্থে হ্যাভেলি ও মোস্তফা দুই পক্ষের সঙ্গেই সখ্য রাখতে চাইত তারা। টাকার জন্য প্রায়ই এ দুজন গ্রুপ পরিবর্তন করত। ওসি জানান, একটি মামলায় গ্রেফতারের পর সুমন কয়েকদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পায়। এর আগে গত ডিসেম্বরে সুমন বাহিনীর লোকজন সাহিনুদ্দিনকে একবার কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে স্থানীয় আড্ডুর মাধ্যমে তাদের সমঝোতা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের পাশেই একটি বাড়িতে সাহিনুদ্দিনের মা বসবাস করেন। তাকে কোপানো শুরু করলে ছেলে মাশরাফি দৌড়ে ওই বাসায় গিয়ে তার দাদি আকলিমাকে বলে, ‘সুমন গুন্ডা আমার বাবাকে কোপাচ্ছে।’ পরে স্বজনরা এসে সাহিনুদ্দিনের বীভৎস লাশ দেখতে পান।

জানা গেছে, পল্লবীতে দুটি বড় গ্রুপ ছাড়াও হ্যাভেলিতে দুটি উপগ্রুপ আছে। একটি উপগ্রুপের নেতৃত্বে আছেন তাহের। অপরটির নেতৃত্বে কিবরিয়া। সুমন তাহেরের গ্রুপ এবং সাহিনুদ্দিন কিবরিয়া গ্রুপকে শেল্টার দিত। অন্যদিকে সাবেক মেজর মোস্তফা কামালের গ্রুপে রয়েছেন সাহিনুদ্দিনের ভাই মাইনুদ্দিন।

সাম্প্রতিক সময়ে সাহিনুদ্দিন হ্যাভেলির পক্ষে এবং মাইনুদ্দিন ছিলেন মোস্তফার পক্ষে। অথচ গত ডিসেম্বরে সাহিনুদ্দিনকে যখন সুমন কোপায়, তখন সাহিনুদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন মোস্তফা। মোস্তফার কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার পরও সাহিনুদ্দিনের অবস্থান হ্যাভেলির পক্ষে ছিল। সম্প্রতি মোস্তফা সরকারি ৩২ শতাংশ জমি দখল করতে যায়। হ্যাভেলিও তা নিজেদের দাবি করে।

মোস্তফার পক্ষে মাইনুদ্দিন বাউন্ডারি দেওয়াল করতে গেলে হ্যাভেলির পক্ষে সাহিনুদ্দিন বাধা দেয়। এক পর্যায়ে সুমন এবং সাহিনুদ্দিনকে ম্যানেজ করে ফেলে মোস্তফা। এ বিষয়টি হ্যাভেলি জেনে যায়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। সৌজন্যে: যুগান্তর

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD