শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম ::
মুসলিমদের সাথে ইফতারে ভার্চুয়ালি যোগ দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো লাখো মানুষের ভালোবাসায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন দিলদার হোসেন সেলিম ঈদ উপলক্ষে কুলউড়ায় শফিউল আলম নাদেলের বস্ত্র বিতরণ লিটিল হুপ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে খাবার সামগ্রী বিতরণ ছাতক উপজেলা ও পৌর আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতির আহবায়ক কমিটি গঠন সিলেট পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করলেন নিসচার কেন্দ্রীয় নেতা মিশু সিলেট জেলা যুবলীগের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত সিলেট মেরিন একাডেমির উদ্বোধন ও প্রাসঙ্গিক কথা পাইলটের দক্ষতায় চাকা খুলে পড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ মৌলভীবাজারে জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সেই ঐতিহাসিক দিন আজ সিলেটে করোনায় আরো ২জনের মৃত্যু, সনাক্ত ৭৪ শুকনো কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায় রোজার মহিমায় মুগ্ধ হয়ে ভারতীয় তরুণীর ইসলাম গ্রহণ
cloudservicebd.com

বন্ধুকে হত্যার পর একাই পড়েন জানাজা, ক্ষমা চান লাশের হাত ধরে

20210425 235907 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট ডেস্ক : বন্ধুকে রেঞ্জ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মো. নেজাম ওরফে মিজান। হত্যার পর একদিন পাহাড়ে লাশ লুকিয়ে রাখে। পরে একাই পড়েন জানাজা। লাশ ডোবায় লুকিয়ে রাখে। এছাড়া নেজাম ক্ষমা চান বন্ধুর লাশের হাত ধরে!

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাকচালককে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে চালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক মাস পর শনিবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পারুয়া ইউনিয়নের একটি ডোবার তলদেশের মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে দুপুরে ঘটনার মূল হোতা মো. নেজাম ওরফে মিজানকে (২৬) সন্দ্বীপ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নেজাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজিজুলকে হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনার বীভৎস বর্ণনা দেন। মূলত পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যার পরিকল্পনা করেন নেজাম।

তিনি জানান, ঘটনার দিন বালু আনার নাম করে আজিজুলকে কৌশলে রাঙ্গামাটি জেলার বেতবুনিয়া এলাকার নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে রেঞ্জ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি। হত্যার পর একদিন পাহাড়ে লাশ লুকিয়ে রাখার পর বন্ধু আজিজুলের জানাজা ও দাফন করার চিন্তায় আসে নেজামের মাথায়। সে অনুযায়ী ২৬ মার্চ দিবাগত রাতে তিনি লাশটিকে কাঁধে করে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা চৌধুরীখিল নাজিম প্রফেসরের পাহাড়ের পাদদেশে একটি ডোবার সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে নেজাম একাই লাশের জানাজা পড়েন। এ সময় বন্ধুর লাশের হাত ধরে ক্ষমা চান। পরে কবর দেওয়ার মতো করে ডোবার তলদেশে লাশটিকে গুম করেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২৫ মার্চ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আল আমিনপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের পুত্র ট্রাকচালক আজিজুল হক (২৭) নিখোঁজ হন। এ প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ ভিকটিমের বাবা রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি হারানো জিডি করলে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল এ প্রসঙ্গে ভিকটিমের মামা হায়দার আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে আজিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি প্রযুক্তির সাহায্যে কক্সবাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ঘটনার ১৫ দিন পর মোবাইলের সূত্র ধরে কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে মোবাইল এবং রামু এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। অপহরণকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই এলাকা থেকে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নেজাম হত্যায় সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান সন্দীপে শনাক্ত করে এবং শনিবার সন্দ্বীপ থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়ার পর হত্যার কথা স্বীকার করলেও হত্যার পদ্ধতি এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন নেজাম। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে, আজিজুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এবং তার লাশ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ এবং প্রশ্নবাণের মুখে শেষপর্যন্ত নিজে খুন করার কথা এবং লাশের সঠিক অবস্থান জানাতে বাধ্য হন তিনি। পরে তার দেখানো মতে বর্ণিত স্থান থেকে আজিজুলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নেজামের স্ত্রীর সঙ্গে আজিজুলের পরকীয়া প্রেম রয়েছে। মূলত এ সন্দেহ থেকেই আজিজুলকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন নেজাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার গ্রেফতারকৃত মো. নেজামকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আঞ্জুমান আরার আদালতে তোলা হলে তিনি ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আজিজুলকে হত্যা ও গুমের ঘটনার লোমহষর্ক বর্ণনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি নিজ স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করেছেন মর্মেও জবানবন্দিতে দাবি করেন।

আসামি নেজাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা হাজীপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান সার্কেল মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন এবং নিবিড় তদন্তে আমরা প্রায় কোনো ক্লু না থাকা এ ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। সেই মোতাবেক শনিবার ঘটনার মূলহোতা নেজামকে গ্রেফতার এবং তার দেওয়া তথ্যমতে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা নিরূপণের জন্য তদন্ত অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


FB IMG 1620380947875 - BD Sylhet News

বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD