সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম ::
তিন বিষয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হবে- নানক সিসিকের সীমানা বর্ধনে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিলেট মহানগর আ’লীগের অভিনন্দন ঈদের আগে দেশে ১৫৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা সিলেটের জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত সাবেক মেয়র কামরানের কবর জিয়ারত করলেন নানক দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তে নতুন রেকর্ড সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাসহ দেশে আরো তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে মৌলভীবাজারে তেল গ্যাস ফিলিং স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার লন্ডনে টানা ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাত: ব্যাপক জলাবদ্ধতা ব্রিটিশ বাংলাদেশি শাহনূর হত্যাকাণ্ড; ৬ জনের কারাদণ্ড করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরো ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার গোয়াইনঘাটে ২৪ বোতল অফিসার্স চয়েজ মদ ও ৪৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট স্থগিত সিলেটে ফেসবুকে গুজব: গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭
cloudservicebd.com

সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা

20210403 030356 - BD Sylhet News

সাঈদ নোমান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক করোনা সংক্রমণের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত সিলেটে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বগামী হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো ঢিলেঢালা ভাব বজায় রয়েছে। বাজার, পরিবহণ ও সাধারণ চলাফেরায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সিলেট বিভাগে ১১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চূড়ায় (পিক) উঠেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। এরপর বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর চলতি বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠে। এর মধ্যে গত ৫ দিনে সিলেট বিভাগে ৪৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই ৫ দিনে মারা গেছেন ৮ জন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরেকটি চূড়ার (পিক) দিকে যাচ্ছে সংক্রমণ পরিস্থিতি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা। পাশাপাশি পরামর্শ দিয়েছেন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এদিকে, গত ৩১ মার্চ দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেশের যে ৩১টি জেলাকে চিহ্নিত করেছে এরমধ্যে প্রথমেই সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা ও ৫ম সিলেট জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এক সপ্তাহ ধরে যেসব জেলায় করোনা শনাক্তের গড় হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৩১টি জেলায় গড় শনাক্তের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে করোনা রোধে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা বলে মনে করছেন সিলেটের সচেতন মহল। শুক্রবার মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া, বাদ জুমআ সিলেট কোর্ট পয়েন্টে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার শহরতলীর টুকের বাজার থেকে আম্বরখানায় আসা সিএনজি অটোরিক্সার ৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৪ জনেরই মুখে মাস্ক নেই দেখা যায়। চল্লিশোর্ধ একজন যাত্রীকে মাস্ক না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মাস্ক পরাকে তামাশা অভিহিত করে বলেন, গত এক বছর থেকে করোনা এবং মাস্ক পরার কথা শুনে আসছি। কিন্তু প্রতিদিনই চলাফেরা করছি, কোনোদিনই মাস্ক পরিনি, করোনাও ধরেনি।
আম্বরখানা কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে অনেকেরই মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। শহর আলী নামে এক সবজি বিক্রেতাকে মাস্ক পরার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সারা দিন মাস্ক পরে কি ব্যবসা করা যায়, আমাদের কাছে কতো ধরণের লোক আসে, তাদের সাথে কতো ধরণের কথা বলতে হয়, মাস্ক পরে কি এসব করা যাবে?

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু নির্দেশনা জারি করলে হবেনা, মাঠ পর্যায়ে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সিলেটে সংক্রমণের হার এবং বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদেরকে সচেতন হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সিলেটের কয়েকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানান, সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং মাস্ক ব্যবহার না করা। গত কয়েকমাস নিম্নমুখী সংক্রমণের কারণে মানুষ মনে করেছিল করোনা বিদায় নিয়েছে। এর মধ্যেই টিকাদান শুরু হওয়ার কারণেও মানুষ অধিক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছিলেন না। বিয়েসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ধুম পড়ে যায়। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় বেড়ে যায়। অধিকাংশ মানুষের মনোভাব ছিল, করোনাভাইরাস চলে গেছে।

তারা মনে করেন, মানুষের এমন বেপরোয়া চলাফেরার ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই সংক্রমণ আবারও বাড়তে থাকে। এখন এটি আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিনের সংক্রমণ পরিস্থিতি গত বছরের জুন-জুলাই মাসকে পেছনে ফেলেছে। এই সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

সিলেটের একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই সচেতনতা বাড়াবে। কিন্তু ওই নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা হবে এবং মানতেই হবে এ বিষয়ে প্রশাসনকে জোর দিতে হবে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার (কোভিড-১৯ মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শাম্মা লাবিবা অর্ণব বলেন,মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিধি পালনে মানুষকে বাধ্য করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া ও পরিসংখ্যানবিদ মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) চার জেলায় ১১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় মারা গেছেন ১ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ জন এবং করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩৩ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট বিভাগে শুক্রবার নতুন শনাক্ত ১১৬ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ৮০ জন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন,সুনামগঞ্জ জেলায় ৭জন, হবিগঞ্জ জেলার ২ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৬ জন।

এই ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সিলেট জেলার ১ জন। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ২২৪ জন, সুনামগঞ্জে ২৬ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন এবং মৌলভীবাজারে রয়েছেন ২৪ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ১২ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন সিলেট জেলার ৯৮ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ১ জন ও মৌলভী বাজার জেলায় ৩ জন । শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনামুক্ত ৩৩ জনের মধ্যে সবাই সিলেট জেলার। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১৭ হাজার ৬০৭ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১০ হাজার ৮৯৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২ হাজার ৬০১ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৫৮ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ২ হাজার ৫৫ জন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে করোনা মুক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১০ হাজার ৬৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলার ২ হাজার ৫৩২ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৬৯৫ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ৯২৪ জন।

বিডি সিলেট নিউজ ডটকম/৩ এপ্রিল-২০২১ইং/সৌজন্যে:-সিলেটের ডাক

শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


বিডি সিলেট নিউজ মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২১
Design & Developed BY Cloud Service BD